প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পদ্মা সেতু রক্ষায় জাগ্রত হোক দায়িত্ববোধ

রাষ্ট্রীয় সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ সুনাগরিকের দায়িত্ব। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূরণ করা যেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ করা নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।

অতি সম্প্রতি আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদের তালিকায় যুক্ত হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এটির জাতির আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বনির্ভরতার প্রতীক। এটি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ইতিহাসের অংশ হতে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিন নদীর দুই পাড়ে লাখ লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আঁচ করা যায়, এ সেতু বালার মানুষের কাছে কতটা কাক্সিক্ষত। এটি আমাদের গর্বের ধন, আবেগের জায়গা। 

‘ইতিহাসের অংশ’ হতে উদ্বোধনের পরদিনই অনেকে সেতু দেখতে গেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছু মানুষ আবেগের আতিশয্যে এমন কিছু কর্মকাণ্ড করে ফেলেছে, যা কোনো বিবেচনায় প্রত্যাশিত নয়। যেমন, যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে মোবাইল ফোনে সেলফি তোলা বা সেতুর নাট-বোল্ট খুলে টিকটক করা, দ্রুতগতিতে বাইক চালাতে গিয়ে দুজন গুরুতর আহত হয়ে মারা যাওয়ার মতো বেদনাদায়ক ঘটনাও ঘটেছে। 

মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব দেশের বা রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা করা। কোনো অবস্থায়ই রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অনিষ্ট বা ক্ষতি করলে পেতে হবে কঠিন শাস্তি। কেনই বা আমরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করব! এটি তো জনস্বার্থে জনগণের টাকা দিয়েই নির্মিত।

সেতু নির্মিত হয়েছে জনগণের জন্য। অথচ পদ্মা সেতুর ওপর গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটি বন্ধে কঠোর হচ্ছে সেতু বিভাগ। প্রথম দিন পর বন্ধ করা হয়েছে বাইক চলাচল। সেতু বিভাগ বাড়াবাড়ি করছে, তা কিন্তু নয়। সেতু বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, সেতুর ওপরে যানবাহন থেকে নামা নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই তা অমান্য করছেন। বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতে কোনো সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে এর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা আছে। দণ্ডবিধির ৪৩১ থেকে ৪৩৮ পর্যন্ত ধারাগুলোয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টকারীদের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। পদ্মা সেতুতে যারা টিকটক করেছেন, বেপরোয়া বাইক চালিয়েছেন, তারা মানসিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নন! কেন তাদের দণ্ডবিধির ধারা মনে করিয়ে দিতে হবে?

কত অনিশ্চয়তা, অপবাদ পায়ে দলে তৈরি হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বিশ্ব দেখল আমাদের সাহস, যোগ্যতা। এখন কি দেখবে আমাদের দায়িত্বহীনতা! অবশ্যই নয়। মূল সেতুর উপরিভাগ এবং মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। যতই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হোক, কেউ যদি ওঁত পেতে থাকে সুযোগ পেলেই সেলফি তুলবে, নাট-বোল্ট খুলবে! তাই নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আন্তরিক হতে হবে। অন্তরের অন্তস্তল থেকে এই বোধ জাগ্রত হতে হবে, আমাদের জাতীয় সম্পদ আমরাই রক্ষা করব।