পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে গতি আনুন

একসময় আমাদের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিতে হতো। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনাও ছিল দুরূহ। বিদেশি ঋণ ছাড়া বড় কোনো অবকাঠামো নির্মাণের কথা ভাবাও যেত না। তেমন পরিস্থিতি ডিঙ্গিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ অত্যন্ত দুঃসাহসিক পদক্ষেপই বলা চলে।

আজ যে পদ্মা সেতু চালু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র, তার যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না। বিশ্বব্যাংকের আনা ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগসহ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এর নির্মাণ। নানা টানাপড়েন শেষ নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হচ্ছে এবং এর নির্মাণকাজের বড় অংশই শেষ হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালু হলে স্বাভাবিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শিল্পায়ন হবে। বেকারত্ব কমবে, ঢাকার ওপর চাপ কমবে। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা ও সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক প্রভাবে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জ্যেষ্ঠ গবেষকরা মন্তব্য করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সড়কপথ ও রেলপথে যোগাযোগের সময় চার ঘণ্টা কমে যাবে। সব বিবেচনায় এটি ‘স্বপ্নের সেতু’।

স্বাভাবিক গতিতে কাজ শেষ করে পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালে। কিন্তু মহামারি কভিডের কারণে কার্যক্রম বিঘিœত হয়। সেতুতে রেললাইন স্থাপনও কম নয়। একসঙ্গে নড়াইল হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণও বড় অর্জন। গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পে বাস্তবায়ন বিলম্বে পরামর্শক নিয়োগ ব্যয় ৫০ শতাংশ বাড়ছে। খবরে জানা যায়, শুরুর সময় পরামর্শকের চুক্তিমূল্য ছিল ৯৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

সম্ভাব্যতা যাছাই ও সমীক্ষায় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রকল্পব্যয় নির্ধারণ করা হয়। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নির্মাণসামগ্রী, পরিবহন খরচ বাড়ে। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শেষ করার কথা থাকলেও কভিডের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এখন নতুন করে মনুষ্যসৃষ্ট কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়া হবে অনাকাক্সিক্ষত।

যৌক্তিক হোক আর অযৌক্তিক হোক, প্রকল্পব্যয় বেড়ে গেলে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হয়। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় পদ্মা সেতু নির্মাণে এখানে বিদেশি সংস্থা খবরদারি করবে না। এটিও একটি অর্জন। কিন্তু কোনোভাবে বিলম্ব হলে ব্যয় আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সম্প্রতি রাজধানীর রেলভবনে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের পিআইসি কমিটির চতুর্থ সভায় জানানো হয়, অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৫০ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও ভৌত অগ্রগতি ৪৬ শতাংশ। সংশোধিত ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হলে কাজের গতি বাড়বে এবং বর্ধিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২৪  জন  

সর্বশেষ..