সম্পাদকীয়

পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগ ও আনন্দ সর্বব্যাপী হোক

মহামারি কভিডকালে বছর ঘুরে আবার এলো ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির কারণে এ ঈদ আমাদের দেশে কোরবানির ঈদ নামেই পরিচিত। এ উপলক্ষে মুসলিমরা সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু  কিনবেন এবং সেটি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি দেবেন। কোরবানির আভিধানিক অর্থ  আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ। রাসুল (সা.) নির্দেশিত পথ অনুসরণে কোরবানি দেয়া গেলে সেটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সক্ষম হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে গেলে মানুষের অসন্তুষ্টি কিংবা ক্ষতি করাও ইসলামি বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কোরবানি শেষে পশু বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে। দুর্গন্ধ যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে। কভিড ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। এর কিছু কারণ মনুষ্যসৃষ্ট। সেটি বিবেচনায় রেখে কার্যাদি সম্পন্ন করলে, আনুষ্ঠানিকতায় কাটছাঁট করলে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে সেটিও ত্যাগ বলে গণ্য হবে।

কোরবানির ইতিহাস অনেকেরই জানা। প্রায় চার হাজার বছর আগে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু কোরবানির জন্য মহান আল্লাহর নির্দেশ পেয়েছিলেন। একাধিকবার কোরবানি দেয়ার পরও একই নির্দেশ আসায় হজরত ইবরাহিম আ. বুঝলেন, সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু চিহ্নিত করতে পারেননি তিনি। ছেলে হজরত ইসমাইলই (আ.) তাঁর সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তু অনুধাবন করে তাঁকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের মহিমায় হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়।

হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এ আত্মত্যাগ মুসলিম জাতির জন্য শিক্ষণীয় হিসেবে আবশ্যকীয় বিধান হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ আসে। সেই থেকে ১০ জিলহজ কোরবানি দেয়ার সুন্নত চালু হয়। পরের দু’দিন ১১ ও ১২ তারিখেও পশু কোরবানির বিধান রয়েছে। কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা ত্যাগ করা, মনের পশুত্বকে ত্যাগ করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। পশু কোরবানি দানকারী আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীকে ন্যায়সংগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন, এটি ইসলামের শিক্ষা নয়। কেউ এমন করলে তিনি কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেননি, তা বলাই যায়।

ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার বিধান আছে। অতিমারিকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় অনেকের কষ্ট বেড়েছে। উচিত হবে নিজে কিছুটা কম রেখে গরিব-অসহায়দের মাংস একটু বেশি দেয়া।

লোক দেখানো কোরবানি নিয়ে ইসলামের কঠোর সতর্কতা আছে। উদ্দেশ্য সৎ হলে কোরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহ তা কবুল করেন। পশুর রক্ত ও বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অসহযোগিতা করে প্রতিবেশীকে ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। কভিডকালে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনেও সচেতন থাততে হবে।

ঈদুল আজহার প্রাক্কালে আমাদের একান্ত কামনাÑত্যাগের অনুসরণে সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব বিরাজ করুক সমাজে। শেয়ার বিজের লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার তথা শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছার পাশাপাশি হাসপাতালে-বাড়িতে থাকা কভিড রোগীদের প্রতি আমাদের সমবেদনা। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সর্বব্যাপী হোক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..