মার্কেটওয়াচ

পরিচালনায় দুর্বলতা থাকলে সক্রিয় হয় দুষ্টচক্র

পুঁজিবাজার প্রতিনিয়ত নিচের দিকে নামছে এবং বাজারের অবস্থা খুবই নাজুক। আসলে বাজার পরিচালনায় অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যখন বাজার পরিচালনায় দুর্বলতা থাকে তখন দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়ে উঠে। সেই দুষ্টচক্র বিভিন্ন উপায়ে বাজারে কারসাজি করে থাকে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মাহমুদ হোসেন এফসিএ এবং টেকনিক্যাল অ্যানালিস্টের অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন।
মুহাম্মদ মহসীন বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় ওই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিয়মে। তেমনি দেশের পুঁজিবাজার পরিচালনার জন্য কিছু পদ্ধতি রয়েছে। আসলে দেশের পুঁজিবাজারে পদ্ধতিগত অনেক গলদ রয়েছে। উন্নত বিশ্বের পুঁজিবাজার দেখে দেশের বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাজার ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের দিকে যাওয়ার জন্য কিছু ধাপ রয়েছে। এ ধাপগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে দ্রুত উন্নত হয়েছে এবং কিছু একেবারে তলানিতে রয়েছে। এ কারণেই বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এ পর্যন্ত বাজারে যেসব কোম্পানি আসছে তাদের বেশিরভাগই স্বল্প মূলধনি। ওইসব কোম্পানি কারসাজির মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদনে পারফরমেন্স ভালো দেখিয়ে বাজারে আসে। পরে বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে অর্থ নিয়ে চলে যায় এবং কোম্পানিগুলোর দৈন্যদশা দেখা দেয়। ফলে ওইসব কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা বিপদে পড়ে। আবার উদ্যোক্তাদের কাছে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা থাকলেও অনেক কোম্পানির এক থেকে তিন শতাংশ শেয়ার রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সেটাই দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগোচ্ছে পুঁজিবাজার সেভাবে এগোচ্ছে না। কেন অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজার এগোচ্ছে না। বাজারের সমস্যা কোথায় বা কী কারণে সমস্যা হচ্ছে সেটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করে এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে হবে।
মাহমুদ হোসেন বলেন, বাজার প্রতিনিয়ত নি¤œগতিতে যাচ্ছে এবং বাজারের অবস্থা খুবই নাজুক। আসলে বাজার পরিচালনায় অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যখন বাজার পরিচালনায় দুর্বলতা থাকে তখন দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়ে উঠে এবং সেই দুষ্টচক্র বিভিন্ন উপায়ে বাজারে কারসাজি করে থাকে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এখন পর্যন্ত বাজার সংক্রান্ত যতগুলো বড় কারসাজি হয়েছে কয়টির বিচার হয়েছে। আবার বাজার থেকে যে উদ্দেশ্য কোম্পানিগুলো অর্থ উত্তোলন করে সেখানে বিনিয়োগ না করে বিদেশে বাড়ি, গাড়ি কিনছে। এ বিষয়গুলো উচ্চ মহলের ভেবে দেখা উচিত। তা না হলে বাজার বড় ধরনের খারাপ অবস্থানে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এবং আইএমফ দেশের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। আবার দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। সবই আশারবাণী মনে হচ্ছে। কিন্তু বাজারের তেমন কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। বরং বাজার খারাপের দিকে যাচ্ছে। কথা হচ্ছে কাদের স্বার্থে বাজার এ অবস্থানে যাচ্ছে। এর পেছনে কারা দায়ী। এ বিষয়গুলো সঠিকভাবে নজরদারি করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..