সম্পাদকীয়

পরিবর্তিত শিক্ষাক্রমের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তৈরি করুন

সোমবার আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ২০২৩ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা থাকবে না। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোনো পরীক্ষা দিতে হবে না। আর নবম ও দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা বাণিজ্যের মতো বিভাগ থাকবে না। ২০২৫ সাল থেকে পুরোপুরি নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হচ্ছে।

পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা অব্যাহত রাখার পক্ষে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এ দুটি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। সবার জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষার ভীতি দূর করা এবং মেধাবী ও দরিদ্রদের মাঝে বৃত্তির নিয়মানুযায়ী বৃত্তি দেয়ার সুবিধার্থে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা চালু করা হয়।

সন্দেহ নেই শিক্ষার প্রসারে এবং কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষাভীতি দূরীকরণের উদ্দেশেই পরীক্ষাগুলো চালু হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য একশ্রেণির অভিভাবকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এরপর অভিভাবকদের মধ্য থেকেই পিইসি পরীক্ষা বন্ধের দাবি উঠল।

যেহেতু পরীক্ষা দুটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রতিভাবান থাকতে পারে, দারিদ্র্যপীড়িত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করতে হবে।

পিইসি পরীক্ষার কারণে শহর-গ্রামের সব অভিভাবকই জিপিএ-৫ এবং এখন সার্টিফিকেটের পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছেন। তাদের আকাক্সক্ষার বলি হচ্ছে শিশু। কীভাবে ‘সর্বোচ্চ সাফল্য’ অর্জন করা যায়, তা-ই যেন ধ্যানজ্ঞান। ১০ বছরের স্কুলজীবনে বিশ্বের আর কোথাও তিন-তিনটি পাবলিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় না। শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বে সর্বাপেক্ষা উন্নত ফিনল্যান্ডে ১৮ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোনো পাবলিক পরীক্ষা দিতে হয় না। আমাদের তা হয়তো করা সমীচীন হবে না। কিন্তু কোমলমতি শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেয়া অমানবিক পরীক্ষাপদ্ধতির অবসান হলো।

শিক্ষাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে হবে। এখানে আর কোনো এক্সপেরিমেন্ট কাম্য নয়। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় ‘স্বনামধন্য’ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাবাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। পরিবর্তিত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পিইসি-জেএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য, প্রাইভেট টিউশন বাণিজ্য ও গাইডবই বাণিজ্যে শিক্ষকদেরও সংশ্লেষ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু পরীক্ষা বাতিল করলে হবে না,  শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। নিশ্চয়ই সেটিও বিবেচনায় রাখছে সরকার। নতুন প্রজšে§র মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি এবং তাদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষাব্যবস্থা সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..