মত-বিশ্লেষণ

পরিবেশের উপাদান অক্ষুন্ন রেখেই উন্নয়ন

শিশির রেজা: পৃথিবীর সাম্প্রতিক সামষ্টিক দুর্বল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন জীবকুলকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তার অনিবার্য ফলাফলে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন বৈশ্বিক পরিবেশকে শঙ্কিত করে দিচ্ছে। একজন মানুষের যে পরিমাণ ভার বহন করার ক্ষমতা আছে, তাকে যদি তার ক্ষমতার চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি বহন করতে দেওয়া হয়, তাহলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে বর্তমান পৃথিবীকেও তার ক্ষমতার থেকে অধিক ভার বহন করতে দিয়ে একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন করেছি আমরা।
সবুজ প্রবৃদ্ধি এলে আমার উন্নয়ন হবে। কর্মসংস্থান হবে। দারিদ্র্য দূর হবে। বনবাদাড় উজাড় হবে না। নদীনালা ও খালবিল ভরাট হবে না, দখল হবে না। কলকারখানা দূষণ ছড়াবে না। কার্বন নিঃসরণ বাড়বে না। পরিবেশ দূষিত হবে না। প্রতিবেশ বিনষ্ট হবে না। বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হলেও দুই দশক ধরে জিডিপির একটি উন্নয়নশীল ধারা বজায় রেখেছে, যা প্রশংসাসূচক। পৃথিবীর উন্নয়নের ইতিহাস বলে, কোনো উন্নয়নশীল দেশ যখন দ্রুত জিডিপির অগ্রগতি অর্জন করে, তখন একটা পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পরিবেশের সুস্থতার কথা ভাবার ফুরসত পায় না। পরিবেশের সুস্থতা বজায় রেখে উন্নয়ন করার বিষয়টি তখন গৌণ হয়ে যায়। উন্নয়ন ইতিহাস থেকে আমরা তাও জানি যে, জিডিপি উন্নয়নের একটি পর্যায়ে একটি দেশের মোড় ঘুরতে থাকে অর্থনীতির অদৃশ্য শক্তির কারণেই। আর তখন পরিবেশের কথা সবাই ভাবতে বাধ্য হয়।
আমরা যদি আমাদের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিবেশের সুস্থতাকে এখনই সংশ্লিষ্ট না করে টেকসই উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর থাকি, আমাদের পরিবেশের সবকিছুই শেষ হয়ে যাবে; আমরা আমাদের পরবর্তী বংশধরদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারব না। এরই মধ্যে বনধ্বংস, জীববৈচিত্র্য ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া, পানি ও মাটিদূষণ, বর্জ্য অপসারণে সমস্যা, খাদ্যে নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক অসমতা লক্ষ করছি। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি দেশ। এখনই যথেষ্ট সচেতন না হলে বাংলাদেশে পরিবেশের বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী। এ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য ‘সবুজ অর্থনীতি’তে প্রবেশ করা ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো উপায় নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ অর্থনীতিতে খুব দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। এই অর্থনীতি দারিদ্র্যবিমোচনে কাজ করে এবং শক্তি ও সম্পদের যথাযথ ব্যবহারকে নিশ্চিত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া ও পরিবেশ বিপর্যয়ের যে দুর্যোগ আমাদের দেশে ধেয়ে আসছে এবং তার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমরা পৃথিবীর উন্নত দেশে যে ক্ষতিপূরণের ডাক দিয়েছি, সেটা অবশ্যই আমরা চাই। এখনই আমাদের যা দরকার তা হচ্ছে, বাংলাদেশে সবুজ অর্থনীতি বিনির্মাণের জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে বিনিয়োগের ডাক দিতে হবে সর্বতোভাবে।
সবুজ প্রবৃদ্ধিসংক্রান্ত কাজে ব্যাংকের অপরাপর গ্রাহক কে কী করছেন, এ বিষয়ে ব্যাংক তার গ্রাহকদের তথ্যসেবা দিয়ে অবহিত ও অনুপ্রাণিত করতে পারে। সবুজ উদ্যোগে অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য-জ্ঞান বিনিময়ের কাজও করতে পারে ব্যাংক। সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের সক্ষমতা জোরদারে কাজ করতে পারে। যেমন পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। মানবিক চেতনার মধ্য দিয়ে আর্থিক ক্ষেত্রকে সবুজ অর্থায়নে আগ্রহী করে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক যথাযথভাবে কাজ করছে কি না, সেসব তথ্যের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে পুঁজিবাজার ও বিমাবাজারও সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে পারে। উন্নত বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে পুঁজিবাজার ও বিমাবাজারের তথ্য প্রকাশ ও প্রণোদনা প্রদানে বড় মাপের সংস্কার কমর্সূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উন্নয়নমূলক ভূমিকার কারণে সবুজ অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে গৌরবময় আসনে স্থান করে নিয়েছে। এই অভিযাত্রাকে টেকসই করার স্বার্থেই বাংলাদেশ ব্যাংককে সদা সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সবুজ পণ্য উৎপাদনের পুনঃঅর্থায়ন কমর্সূচি চালু করেছে। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়নে প্রায় দ্বিগুণ মূলধন (৪৭৮ মিলিয়ন টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২০ মিলিয়ন টাকা) জোগান দিয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় সর্বোচ্চ পরিমাণে ঋণ গ্রহণকারী ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ইটের ভাটা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি। এ জন্য পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নীতিমালার মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত কাবর্ন-মনো-অক্সাইড উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের অর্থের জোগানে ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে সেসব কাটিয়ে ওঠার জন্য সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্যে ঋণ প্রস্তাবনার শুরুতে উদ্যোক্তার পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয় খতিয়ে দেখার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি সবুজ বিনিয়োগ বা সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগকে দৃঢ় সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত সবুজ প্রকল্পগুলো হচ্ছে পারিবারিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুতের ক্ষুদ্র কেন্দ্র স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন, সৌর বিদ্যুতের প্যানেল সংযোজন, জৈব জ্বালানি ও বায়োগ্যাস। ইটভাটায় পরিবেশদূষণকারী কাঠ ব্যবহার বা পরিবেশবিধ্বংসী ইট পোড়ানোর পরিবর্তে জ্বালানিসাশ্রয়ী বিকল্প উপায়ে ইট পোড়ানো, জৈবসার উৎপাদন, ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, পুরনো প্লাস্টিক বোতল পুনর্ব্যবহার, সৌরবিদ্যুতের ব্যাটারি রিসাইক্লিং, লাইট ইমিটেটিং ডায়োড বা এলইডি বাতি, এলইডি মনিটর উৎপাদন এবং সবুজ গামের্ন্ট কারখানার মতো নানামুখী অর্ধশতাধিক সবুজ পণ্যের বিনিয়োগের উদ্যোগ কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতির চাকাকে সবুজ করার জন্য ২০০ কোটি টাকার রিভলভিং সবুজ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে, যা দিয়ে প্রাথমিকভাবে রফতানি শিল্প, যেমন তৈরি পোশাক, চামড়া প্রভৃতিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালিত চৌকস পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ২০ কোটি ডলার মূল্যের সবুজ রূপান্তর তহবিল। সবুজ অর্থায়ন কর্মসূচির যথার্থ বাস্তবায়ন করা গেলে নিশ্চয় বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের জন্য (যেমন সবুজ টেক্সটাইল পণ্য, চামড়া) বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নয়া সবুজ ব্র্যান্ডিংয়ের উৎসও হয়ে উঠতে পারবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক খাতের ভূমিকা, নীতি-পলিসি তৈরির প্রেক্ষাপটগুলো নজিরবিহীন মনোযোগ আকর্ষণ করেছে গোটা বিশ্বে। সবুজ অর্থায়ন বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের নীতি-নির্ধারকরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে একযোগে কাজ শুরু করেছে। চীনের কথাই ধরা যাক। দেশটির অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে উচ্চাভিলাষী সবুজ অথার্য়নের উদ্যোগ নিয়েছে সেদেশের সরকার। চীনের গৃহীত নানা ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে পুরোমাত্রায় কাজ করে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নেদারল্যান্ডস সরকার ব্যাংক-বিমা খাতের পাশাপাশি দেশটির পেনশন শিল্পের টেকসই অর্থায়ন আলোচনা জাতীয় কৌশলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্রহণ করছে সবুজ অর্থায়ন কৌশল। কেনিয়ার কথা উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে। কেনিয়া এখন ডিজিটাল অর্থায়নে গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি মনে রেখে তারা উদ্ভাবনীমূলক সবুজ ডিজিটাল অর্থায়নের জন্য মোবাইল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে অ্যাপস যুক্ত করে সবুজ অর্থায়নের ধারণা সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে, বিশেষ করে মশলা ফসল উৎপাদন ও গবাদি পশু পালনের ভর্তুকি ঋণের সহায়তা নিশ্চিত করে নয়া মডেল সৃষ্টি করেছে। মডেলটি সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্যেও অনুসরণীয় হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সবুজ আর্থিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রবর্তন করেছে সিএসআর। বর্তমানে সিএসআরের ১০ শতাংশ ব্যায়িত হচ্ছে সবুজ অর্থায়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এই তহবিল ব্যয় করার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। এই অনুপাত ২৫ শতাংশে উন্নীত করা দরকার। সামাজিক উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সহযোগিতা পাচ্ছেন। নয়া উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতা করে এই তহবিল থেকে সহযোগিতা নিচ্ছেন।
কম কার্বন খরচ করে যে বিকাশ, পরিবেশ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্র্যের হাত ধরাধরি করে যে অগ্রগতি, তাকেই সরলভাবে সবুজ প্রবৃদ্ধি বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি না করে যে প্রবৃদ্ধি, তা-ই হলো সবুজ প্রবৃদ্ধি। সবুজ প্রবৃদ্ধি হলো এমন নীতি ও পদ্ধতি, যা পরিবেশবান্ধব উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সর্বাধিক সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশল তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যবিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, দূষণ হ্রাস এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর সঙ্গে সবুজ প্রবৃদ্ধির এ ধরনের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সবুজ প্রবৃদ্ধির রাজনৈতিক অর্থনীতি আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে।
সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক সংলাপের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি এরই মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত অংশীজনেরা সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আগ্রহী।
সবুজ অর্থনীতি, সবুজ প্রবৃদ্ধি আর সবুজ উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কম কার্বন খরচ করে যে বিকাশ, পরিবেশ-প্রকৃতি-জীববৈচিত্র্যের হাত ধরাধরি করে যে অগ্রগতি, তাকেই সরলভাবে সবুজ প্রবৃদ্ধি বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি না করে যে প্রবৃদ্ধি, তা-ই হলো সবুজ প্রবৃদ্ধি। টেকসই নির্মাণ, টেকসই বনায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাতগুলোতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সাফল্য দেখিয়েছে। তবে দেশে সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সংস্কারের পথে বেশ কিছু শক্ত বাধা রয়েছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
সবুজ অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন অর্জনে যা করতে হবে
ক. পরিবেশগত ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ইস্যু করার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারের সম্পৃক্ততা পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের তাদের নিকটবর্তী এলাকায় টেকসই বর্জ্য অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের রীতি গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার জাতীয় ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের আওতাভুক্ত এলাকার জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা; খ, পরিবেশ অধিদফতরের জনশক্তির তীব্র ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনা করে বিষাক্ত বর্জ্যযুক্ত পান উৎপাদনকারী খাতে ইটিপি পরিচালনা নিয়মিত পরিদর্শন করার কাজে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়োজিত করা; গ. পরিবেশ অধিদফতরে অভিযোগ না করেই যাতে নাগরিকেরা পরিবেশ আদালতে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে পরিবেশগত আদালত আইন, ২০১০ সংশোধন করা, আদালতে বিচার প্যানেলে যোগ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য পদ তৈরি করা এবং দেশে বিদ্যমান সব আইন ও বিধিমালায় নির্ধারিত পরিবেশগত বিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার অনুমোদন প্রদান করা; ঘ. পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধি, ১৯৯৭ সংশোধন করা, যাতে পরিবেশগত বিধি লঙ্ঘনের জন্য যথেষ্ট আর্থিক জরিমানা করা যায়।
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং ইসিসি ইস্যু করার ক্ষেত্রে আরও কঠোরতা আরোপ করার পাশাপাশি পরিবেশগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে সবুজ অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন অর্জন অসম্ভব নয়।

উন্নয়ন ও পরিবেশ গবেষক
সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি

সর্বশেষ..