কোম্পানি সংবাদ

পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন পেল পাওয়ার গ্রিড

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ২৫১ কোটি টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ ২৯ হাজার ৯১০ টাকা থেকে ৭১২ কোটি ৭২ লাখ ৬৯ হাজার ৯১০ টাকা অর্থাৎ ২৫১ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিল বিএসইসি। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের কাছে প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা দরে ২৫ কোটি ১৮ লাখ ১৪ হাজার সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বাড়াবে কোম্পানিটি। আর নগদের পরিবর্তে ভেন্ডরস এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে এ মূলধন বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। গত ২৭ নভেম্বর বিএসইসির ৭০৮তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড কোম্পানিটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পঞ্চম ভেন্ডরস এগ্রিমেন্ট ও ষষ্ঠ ভেন্ডরস এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে ২০০২ ও ২০০৭ সালে যথাক্রমে ১৭ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও ২৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার (মোট ২৫১ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা) বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে। যা কোম্পানিটি এখন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ওই অর্থ মূলধনে রূপান্তরিত করবে। এছাড়া ২৫ কোটি ১৮ লাখ ১৪ হাজার সাধারণ শেয়ার কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে লক-ইন অবস্থায় থাকবে যা কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বিক্রয় বা হস্তান্তর করা যাবে না।

এদিকে ৩০ জুন ২০১৯ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা করেছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে আট টাকা ৩৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪৩ টাকা ৭৬ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় রাজধানীর আফতাব নগরে অবস্থিত কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর।

একইসঙ্গে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০১৯) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর গত বছরের তুলনায় এ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে দুই টাকা ৮৭ পয়সা, আগের বছর একই সময় ছিল দুই টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪৪ পয়সা। এছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকা ৩৭ পয়সা, যা ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরে ছিল ১১৪ টাকা ২১ পয়সা। আর এ প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে পাঁচ টাকা ৮৮ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল তিন টাকা ১৪ পয়সা।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির আট লাখ ৯ হাজার ৩৪৬টি শেয়ার মোট ৮৯৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর চার কোটি ৪৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ারদর আট দশমিক ৩১ শতাংশ বা চার টাকা ৯০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৫৪ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫৪ টাকা ২০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫৯ টাকায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৪৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৬৮ টাকায় ওঠানামা করে।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে চার টাকা ৭৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ১২ পয়সা।

‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানির এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৭৮৭ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৪৬ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৯৯১টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ এবং বাকি চার দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে।

সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১১ দশমিক ৪৬ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে চার দশমিক ৭২।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..