সম্পাদকীয়

পরিষেবা সংযোগ অনিরাপদ হওয়া কাম্য নয়

গত রোববার চট্টগ্রামের পাথরঘাটা এলাকায় বাসাবাড়িতে বিস্ফোরণে সাতজন মারা গেছেন। কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, গ্যাসলাইন লিকেজের কারণে নয়, সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিস্ফোরক অধিদফতর বলছে, গ্যাসলাইনেই লিকেজ ছিল।

একইভাবে গত ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হন। সেখানেও গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণের সন্দেহ জোরালো ছিল; কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যায়নি। কার্যত, ঢাকা বিশ্বের ঘনবসতিপূর্ণ ও অনিরাপদ শহরের তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য শহরেরও প্রায় একই দশা। পরিষেবা ব্যবস্থা এতটাই নাজুক যে, আবাসনের নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। সরকারি পরিষেবা খাতগুলো অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই চলছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও জনদুর্ভোগের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আপদকালীন উদ্ধার তৎপরতা কিছুটা দেখা গেলেও স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষকে খুব বেশি শক্তিশালী উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না।

সরবরাহকৃত গ্যাসলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নিয়মিত কোনো তদারকি ব্যবস্থা নেই। বছরের পর বছর ধরে গ্যাসের রাইজার রোদ-বৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকলেও পরিবর্তন করা হয় না। আবার কিছু বাড়িওয়ালা ইচ্ছেমতো রাইজারকে বাসার মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়াই স্থাপন করছেন। সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ চোখে পাড়ে না। রোববার চট্টগ্রামের যে বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই বাড়ির মালিক তার রাইজার চুরির ভয়ে এক বদ্ধ খোপে নিয়ে স্থাপন করেছিলেন। এটি দুর্ঘটনার পর শনাক্ত হলো। এভাবে প্রতিটি পরিষেবা সংযোগে গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এগুলো আগে থেকেই সমাধান না করে আপদকালে শাস্তি দিয়ে স্থায়ী কোনো সুরাহা হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া, বিদ্যুৎ লাইন থেকেও বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। বাসাবাড়িতে গ্যাস ব্যবহারের ত্রুটির কারণেও বিস্ফোরণ হচ্ছে। সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। ব্যবহারকারীরা কেমন চুলা ব্যবহার করছেন এবং চুলা ব্যবহারের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে তারা সচেতন কি নাÑতা নিয়মিত তদারকি করা উচিত। বহুতল ভবনের কোনো একটি ফ্ল্যাটে গ্যাস বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ভবনটির অন্যান্য বাসিন্দাকেও এর শিকার হতে হয়। তাই এই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। রাজধানীসহ বিভিন্ন ব্যস্ত শহরের পয়োনিষ্কাশন, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন মেরামতকাজে পথচারী চলাচলের ব্যাপারে তেমন কোনো দায়িত্বশীল সতর্কতা গৃহীত হতে দেখা যায় না। শহরগুলো এমন অনিরাপদ হয়ে গেলে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব হবে না। তাই রাষ্ট্রজন শিগগিরই সমস্যা সমাধানে দৃঢ় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..