দিনের খবর শেষ পাতা

পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ফাইজারের টিকা পাবেন ‘৩৬০ জন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রথম দিন গতকাল ঢাকার তিনটি হাসপাতালে ৩৬০ জনকে টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টিকাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণ শেষে সাত থেকে ১০ দিন পর অন্যদের ক্ষেত্রে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা করেছে অধিদপ্তর। গতকাল অধিদপ্তরের বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছেন এমএনসিঅ্যান্ডএইচের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩৬০ জনকে প্রথমে এ টিকা দেয়া হবে। আজ ফাইজারের টিকাদান শুরু হলে তা হবে বাংলাদেশে কভিড প্রতিরোধে ব্যবহার করা তৃতীয় টিকা। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়ার মাধ্যমে দেশে কভিডের টিকার প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাদান শুরু হয়।

এ টিকার মজুত ফুরিয়ে এলে দ্বিতীয় টিকা হিসেবে দেশে দেয়া হচ্ছে চীনের সিনোফার্মের টিকা। ২৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতাকে দিয়ে এ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। শনিবার থেকে দেশের ৬৭টি কেন্দ্রে সিনোফার্মের টিকার গণপ্রয়োগ শুরু হয়েছে। চীনের উপহার হিসেবে পাঠানো ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা ১২ মে ও ১৩ জুনের দুই চালানে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বাংলাদেশে তৃতীয় টিকার চালান হিসেবে টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্স থেকে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি এক লাখ ৬২০ ডোজের চালান এসে পৌঁছায় গত ৩১ মে। এতদিন এ টিকা রাখা হয়েছে আল্ট্রা কোল্ড চেইনের মাধ্যমে।

গতকাল সংবাদ বুলেটিনে ডা. শামসুল বলেন, এ টিকা দেয়ার জন্য গাইডলাইন তৈরি ও প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি ২১ জুন থেকে ফাইজারের টিকা আমরা প্রয়োগ করতে পারব। এটা হবে আমাদের ফার্স্ট রান।’

প্রথম টিকাগ্রহীতাদের পর্যবেক্ষণের সাত থেকে ১০ দিন পর সেকেন্ড রান বা নিয়মিত কর্মসূচি চালু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন টিকাদান কার্যক্রম আরও বর্ধিত করতে পারব। আমরা আশা করি, ঢাকায় আরও কয়েকটি কেন্দ্র চালু হবে।’

ডা. শামসুল জানান, যারা এই তিনটি কেন্দ্রে টিকার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন, তারাই টিকা পাবেন। নিবন্ধন করেছেন কিন্তু টিকা পাননি, নিতে পারেননি, অথবা নেয়ার জন্য আসেননি, তারা কাল যদি আসেন তাহলে টিকা নিতে পারবেন। টিকাদান শুরু হবে সকাল ৯টা থেকে, চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। এই তিনটি হাসপাতালের প্রতিটিতে গড়ে ১২০ জনকে টিকা দেয়া হবে।

দেশে ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তির পর দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যায়। এরপর ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়ে। ফলে টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম ডোজ দেয়া ২৫ এপ্রিল থেকে বন্ধ করে দিতে হয়। এখন শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হলেও তাও ফুরিয়ে গেছে প্রায়। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ সময়মতো পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..