নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ১৭ দিনে ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি অংশে বিক্রি হয়েছে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই। গতকাল রোববার বিকালে অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বইমেলা উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ড. সেলিম রেজা।
তিনি জানান, এবার ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই মেলার তথ্যকেন্দ্রে জমা হয়েছে। প্রকাশিত সব বই তথ্যকেন্দ্রে জমা না হওয়ায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। নিবন্ধনকৃত মোট মোড়ক উšে§াচিত বইয়ের সংখ্যা ২৫২টি।
ড. সেলিম রেজা জানান, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্য সেবাকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৭০টি। এর মধ্যে ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ দিনে তাদের মোট বিক্রির পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। সে ক্ষেত্রে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণরূপে মওকুফ করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান স্টল ভাড়ার অর্থ বাবদ অর্থ জমা দিয়েছেন, তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, মেলা শুরু করার আগে প্রকাশকদের মধ্যে নানা মতবিরোধ ছিল। তবুও মেলার শেষ পর্যায়ে এসেছি। এবারের বইমেলা ছিল ১৮ দিনের।
তিনি বলেন, আয়োজক প্রতিষ্ঠান বইমেলা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি করেনি, এটি ছিল বাস্তবতা। অনেকেই অবান্তর তির্যক মন্তব্য করেছেন, এটি ঠিক নয়। আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতার কোনো কমতি ছিল না। এ সময় অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ লেখক ও প্রকাশকরা উপস্থিত ছিলেন।
গত মাসের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে শুরু হলো এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।
বইমেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবেশ সুরক্ষায়। আয়োজকরা ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের বইমেলা হবে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’। এ লক্ষ্যে মেলা প্রাঙ্গণকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখা হচ্ছে। স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট ও খাবারের দোকানগুলোয় পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ যেমনÑপাট, কাপড় ও কাগজ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post