দুরে কোথাও

পর্যটকদের কাছে টানে কলাবাগান ঝরনা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। এ জেলায় রয়েছে মিঠাপানির কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। হ্রদের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ পাহাড়। হ্রদ ও পাহাড়ের মিতালির পাশাপাশি সবুজ অরণ্যর গহিন পাহাড়ে কয়েকটি ঝরনার সন্ধান মেলে। এর মধ্যে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কলাবাগান ঝরনাটি অন্যতম। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কলাবাগান ঝরনা’ নামে বেশ পরিচিতি। প্রতিদিন কয়েকশ পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে।
দিন দিনে ঝরনাটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলার বাইরে থেকে দূর-দূরান্তের পর্যটকেরা নিয়মিত ছুটে আসছেন দুর্গম এলাকার ঝরনাটিতে অবগাহন করতে। প্রথমেই সতর্ক করে রাখা ভালো। ঝরনাটি দেখার জন্য বেশ বেগ পোহাতে হবে আপনাকে, কেননা মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে কঠিন পথ মারিয়ে তবেই কাক্সিক্ষত কলাবাগান ঝরনার কাছে পৌঁছাতে হবে।
ঝরনার কাছে পৌঁছানোর আগে পাহাড়ি ঝিরি (ছড়া) চলার সময় সবুজ গাছপালা, দুর্গম পাহাড়, পাখির কিচিমিচি ও ঝিরির মাঝে সাদা নুড়িপাথর যে কোনো পর্যটকের মনকে মাতিয়ে তুলবে। তবে হাঁটার সময় সাবধান থাকতে হবে, কেননা পাথরের মধ্যে শ্যাওলা জমে থাকে। তাই যে কোনো সময় পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এজন্য অভিজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে পথা চলা উচিত।
হাঁটার সময় পথিমধ্যে ছোট দুটি ঝরনা চোখে পড়বে। ক্লান্তি দূর করতে প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে কিছুক্ষণ গা ভিজিয়ে নিতে পারেন। এরপর বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বড় ঝরনাটি দেখার পালা। সেখানে পৌঁছানোর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে নিশ্চিত। তখন মেতে উঠবেন তারুণ্যের জোয়ারে।
ঝরনার শোঁ-শোঁ শব্দের গানের সঙ্গে হারিয়ে যান স্বপ্নবিলাসী মন নিয়ে। হ্যাঁ, বলে রাখা ভালো, বিকালের মধ্যে ঝরনার স্থান ত্যাগ করতে হবে, কেননা এখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই।
মুখরোচক কোনো খাবার খেতে চাইলে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। এখানে পর্যটকদের রুচির স্বাদ বাড়াতে কোনো দোকান নেই। তবে দু-এক ব্যক্তি নিজস্ব উদ্যোগে স্বল্প পরিসরে ঝালমুড়ি ও পেয়ারা বিক্রি করেন।
সরেজমিনে পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিকে ঝুঁকিপূর্ণ দুর্গম পথ, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা আনন্দকে বেদনায় পরিণত করতে পারে। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, নিরাপত্তা জোরদার করা, সৌন্দর্যবর্ধন, বিশ্রামাগার নির্মাণ ও খাবারের জন্য কয়েকটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করা হলে এ স্থানটি পর্যটনসমৃদ্ধ হবে। বাড়বে রাজস্ব। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।
চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা রহমত উল্লাহ খান বলেন, আমরা কয়েক বন্ধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অপরূপা ঝরনাটি দেখতে এসেছি। পাহাড়ি পথে চলার অভ্যাস আমাদের নেই। তবু মনের প্রশান্তি নিতে ঝুঁকি নিয়ে এখানে ছুটে এসেছি। সবকিছু ভালো লাগলেও এখানকার মূল সমস্যা নিরাপত্তার অভাব। নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে মনে করেন তিনি।
চট্টগ্রামের রাণিরহাট থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আহসান শামীম বলেন, আসার সময় যত কষ্ট পেয়েছি, এখানে আসার পর সব ভুলে গেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, বিশ্রামাগার ও কয়েকটি খাবারের দোকান থাকলে স্থানটি নতুন পর্যটন নগরী হিসেবে আলাদা সুখ্যাতি অর্জন করবে।

কীভাবে যাবেন
রাঙামাটি শহরে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সোজা চলে যান কলাবাগান নামক স্থানে। এজন্য ভাড়া গুনতে হবে ২৫০ টাকা। এরপর ছোট্ট গ্রামের মেঠো পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ি ঝিরি পেরিয়ে চলে যাবেন অপরূপ কলাবাগান ঝরনার কাছে।

মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙামাটি

সর্বশেষ..