প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পর্যটক ঘিরে চট্টগ্রামের সেবা খাত হচ্ছে চাঙ্গা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পর্যটকে মুখরিত চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটন স্পট। আর এ পর্যটকদের কেন্দ্র করে সেবা খাতগুলোর ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এ ক’দিনে আশানুরূপ মুনাফা করলেও বছরের অন্যান্য সময়ে তেমন ব্যবসা হয় না।

ইংরেজি পঞ্জিকা অনুযায়ী নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নামে। এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি অসংখ্য মানুষ বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে আসছে। পর্যটকের আগমন বাড়ায় সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বুকিং হয়ে গেছে বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজের কক্ষ। এ অবস্থা শুধু পর্যটন শহর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের চিত্রই নয়, প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে সেন্টমার্টিন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, রাঙামটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকা, নীলগিরি পাহাড়চূড়া, রামুর বৌদ্ধমন্দির, বান্দরবানের স্বর্ণমন্দির, পতেঙ্গা সি-বিচসহ অনেক প্রাকৃতিক ও থিম পার্কগুলোয়। যা পর্যটকদের কাছে উপভোগ্য হয়ে থাকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবারই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারে ছুটে আসেন। বছরের এ সময়ে প্রায় তিন লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এসএম কিবরিয়া বলেন, এখানে সব হোটেল কক্ষ বুকিং করা আছে। এখন দিনে ৪০ থেকে ৫০ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। এ মৌসুমে আমাদের ব্যবসা অনেক ভালো হয়। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, এ শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্টহাউজ-বাংলোর সব কক্ষই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এসব হোটেলে একসঙ্গে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আর প্রতিদিন কক্ষগুলোর ভাড়া বাবদ প্রায় সাড়ে চার কোটি আয় হয়।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, হাজার হাজার পর্যটক সমুদ্রসৈকতে ভিড় জমিয়েছেন। শীত উপেক্ষা করে শান্ত সমুদ্রে নেমে পড়েছেন অনেকেই। কেউ আবার বালুচরে দাঁড়িয়ে সাগরের গর্জন আর সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন। এদিকে সমুদ্রসৈকতের হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস, সি-গাল, লং-বিচ, সি-প্যালেস, আন্তর্জাতিক চেইন রেস্টুরেন্ট কেএফসিসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত ছিল। পাশাপাশি রঙবেরঙের আলোকসজ্জায় সমুদ্রসৈকত ও আশপাশে প্রতিদিনের চেহারা পাল্টে যায়।

চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া ব্যাংকার আবদুল হালিম বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তকে কক্সবাজার সৈকতে দাঁড়িয়ে বিদায় এবং নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে সপরিবারে কক্সবাজার যান। প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, টেকনাফের মাথিনের কূপ এবং ডুলাহাজারার সাফারি পার্কেও যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সব জায়গায় পর্যটকের ভিড় থাকায় আর যাওয়া হলো না।

লং বিচ হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ফরিদুল ইসলাম টিটু জানান, প্রতি বছরের মতো এ সময় পর্যটকে ভরপুর এ হোটেল। প্রতিবারের মতো এবারও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

হোটেল সেন্ট মার্টিনের চেয়ারম্যান এএসএম জাকির হোসেন মিজান বলেন, দেশের পর্যটনের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যটন স্পটের অবস্থান চট্টগ্রামে। এ অঞ্চলে পর্যটন শিল্প বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরও তেমন বিকশিত হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের দূরদৃষ্টিহীনতা, অপর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ জ্ঞানের অভাব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারের অভাবসহ নানা কারণে বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।