প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পর্যটনবান্ধব কুষ্টিয়া

কুদরতে খোদা সবুজ:  কুষ্টিয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশ সাধনের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহের কুঠিবাড়ি ও বাউল সম্রাট লালনের সাধনভূমি ছেঁউড়িয়া দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যুগ যুগ ধরে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে চলেছে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা, কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতিচিহ্ন, টেগেরলজ, মোহিনী মিল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর বাঁধ, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের প্রধান পাম্প হাউজ, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু ঘিরে পর্যটকদের পদচারণে মুখর থাকে এ জনপদ।

কুষ্টিয়া শহর থেকে এক ঘণ্টারও কম সময়ে যাওয়া যায় শিলাইদহের কুঠিবাড়ি। চারদিকে বাগানবেষ্টিত এ মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে কার না মন চায়? কুঠিবাড়ির ভেতরে কবিগুরুর ব্যবহার্য আসবাবপত্র, বাইরে বকুলতলার পুকুরঘাট ও পার্শ্ববর্তী পদ্মার পাড়ও পর্যটককে মুগ্ধ করে। ইচ্ছে করলে কুঠিবাড়ি সংলগ্ন খোরশেদপুর গ্রামের কামেল হজরত খোরশেদ উল মৌলুকের মাজারও ঘুরে আসতে পারেন। শহর সংলগ্ন কালিগঙ্গা নদীর তীরে লালনের সাধনভূমি ছেঁউড়িয়া গ্রাম। এখানে লালন শাহ ও অন্যান্য সাধুর মাজার এবং লালন মিউজিয়াম রয়েছে। এখান থেকে উনিশ শতকের অন্যতম মুসলিম সাহিত্যিক ‘বিষাদ সিন্ধুর’ রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা লাহিনীপাড়ার দূরত্ব মাত্র ২০ মিনিটের। মহান এই সাহিত্যিকের শৈশবের অনেক স্মৃতিই খুঁজে পাওয়া যায় এখানে। শহর থেকে ৪০ মিনিটের দূরত্বে কুমারখালী উপজেলা। কুষ্টিয়ার প্রথম সংবাদপত্র ‘গ্রামবার্তা’র সম্পাদক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের বাড়ি ‘কাঙ্গাল কুঠির’। ১৮৬৩ সালে কুমারখালীর বাংলা পাঠশালার প্রধান শিক্ষক কাঙ্গাল হরিনাথ এমএন প্রেস থেকে পত্রিকাটির প্রকাশ শুরু করেন। গাছগাছালিতে ভরপুর এই কাঙ্গাল কুঠির তার শেষ স্মৃতিচিহ্ন। ‘গ্রামবার্তা’ প্রকাশের এক সময় নীলকর ও লাঠিয়ালদের বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেছিলেন।

কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেগর অ্যান্ড কোম্পানির এ দেশীয় শাখা অফিস ‘টেগের লজ’। তিনি কলকাতা থেকে শিলাইদহে আসার পথে এ টেগের লজে বিশ্রাম নিতেন। লাল রঙের দ্বিতল ভবনটির পেছনে রয়েছে অবিভক্ত বাংলার প্রথম ও প্রধান বস্ত্রকল ‘মোহিনী মিলস’। শহরের গড়াই নদীসংলগ্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আখ মাড়াইকলের যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা ছিল রেনউইক অ্যান্ড যজ্ঞেশ্বর কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানের শেষ প্রান্তে নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে শহররক্ষা ‘রেনউইক বাঁধ’। প্রতি বছর অনেক পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। এখানে নদীতে নৌকা ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন কুষ্টিয়া ঝাউদিয়া জামে মসজিদ। মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের জমিদার আহমেদ আলী সুফির বাড়িতে এই ঐতিহাসিক শাহী মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বৃত্তিপাড়া থেকে হেঁটেও এ মসজিদে যাওয়া যায়। আজও এর স্থাপত্যকলা ও নির্মাণকৌশল দেশি-বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ভেড়ামারা পাম্প হাউজ ও লালন শাহ সেতুর অবস্থান প্রায় একই স্থানে। শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-পাবনা জেলার মধ্যবর্তী পদ্মাপাড়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় রয়েছে এ তিনটি স্থাপনা। আগে থেকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্পের (জিকে) প্রধান পাম্প হাউজে। এর পাশাপাশি পাবনা আর কুষ্টিয়া জেলাকে একত্র করে রেখেছে দুটি অনন্য স্থাপনা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু।

 

কুষ্টিয়া