ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়েজিত রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলা অনুষ্ঠিত তিন দিনের পর্যটন মেলা শেষ হয়েছে শনিবার। টোয়াব জানিয়েছে, এবার প্রায় ৪০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। মেলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রায় তিন কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করেছে। বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) নামে ১৩তম বারের মতো আয়োজিত মেলার ব্যবসা-সংক্রান্ত এসব তথ্য জানিয়েছে টোয়াব।
বিশ্বের অনেক দেশে পর্যটনশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত। বাংলাদেশেও পর্যটনশিল্প রয়েছে। তবে আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারিনি। কিন্তু আমরা যে এ খাতে এগিয়ে চলেছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিজ্ঞপ্তিতে টোয়াব জনিয়েছে, এবারের মেলায় ভ্রমণ ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ৮০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এত বিপুল সাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ইতিবাচক ইঙ্গিত অবশ্যই আশা সঞ্চার করবে উদ্যেক্তাদের।
পর্যটন আমাদের এক সম্ভাবনাময় শিল্প। আমাদের দেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ। নদীমাতৃক ভূখণ্ড, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্রসৈকত, সবুজ বনানী, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি— সব মিলিয়ে এটি একটি পর্যটন সম্ভাবনাময় দেশ। প্রতিবছর দেশ বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা কিংবা নেপালে ছুটে যায়; আমাদের কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, সিলেট বা পাহাড়ি অঞ্চলগুলো বহির্বিশ্বের তেমন মনোযোগ পায় না। কেন আমরা পারছি না, আমাদের কী দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা!
আগে এ খাতের বাধা দূর করতে হবে। আমাদের অবকাঠামোগত দুর্বলতা একটি বড় বাধা। পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য সড়ক যোগাযোগ, নিরাপদ পরিবহন, মানসম্মত হোটেল, তথ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা অপরিহার্য। কিন্তু দেশের অধিকাংশ পর্যটন এলাকায় যাওয়ার রাস্তা এখনও সংকীর্ণ, অনিরাপদ এবং অপরিকল্পিত। কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রেও যানজট, পানি সংকট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দখলদারিত্ব বড় সমস্যা। সিলেট বা বান্দরবানের মতো পাহাড়ি অঞ্চলেও পর্যাপ্ত হোটেল বা রিসোর্ট নেই, যেগুলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। ফলে স্থানীয় পর্যটক ছাড়া বিদেশিরা তেমন ভরসা পান না।
আমাদের সরকার ও বেসরকারি খাতে অনেক প্রকল্প নেয়া হয়, কিন্তু সেগুলোয় অনেক ঘাপলা আছে।আমাদের দেশে পর্যটক এসে যদি ভালো ধারণা ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে না পারে, তাহলে সে দায় তো আমাদেরই।
আমরা যথেষ্ট বিনয়ী, অতিথিপরায়ণ বটে; কিন্তু মওকামতো ব্যবসা করতে এতটুকু ছাড় দিই না। আমরা পরিবশ ঠিক রাখতে জানি না। বলা যায় এখনও আমাদের পর্যটন খাত মৌসুমি ব্যবসায়’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে স্থায়ী কর্মসংস্থান বা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব আয়ের দিকটি অবহেলিত।
শিল্পোদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করেন, এ শিল্পে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাই নিরাপত্তা ও আচরণগত সমস্যা আমাদের সামাজিক সমস্যা হিসেবেই নিতে হবে। আমাদের দায়িত্বহীনতায় কিংবা অতি মুনাফা করার আশা বিদেশি পর্যটকরা নানাভাবে হেনস্তা-হয়রানির শিকার হন। এটি আমাদেন জন্য লজ্জার। স্থানীয়দের আচরণ বা আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা পর্যটকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। একটি দেশের ভাবমর্যাদা গঠনে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু সরকার বা ব্যক্তি হিসেবে নয় জাতি হিসেবে আমাদের পরিমিতিবোধের চর্চা করতে হবে।
প্রিন্ট করুন





Discussion about this post