মত-বিশ্লেষণ

পর্যটন: এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাময় খাত

পাঠকের চিঠি

মানুষ অজানাকে জানতে চায়। অজানাকে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ভ্রমণ করা। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে ভ্রমণের বিকল্প নেই। প্রাচীন কাল থেকেই মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। নিজেদের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে মানুষ ছুটে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে।

দৈনন্দিন জীবনে আমরা কর্মক্ষেত্রে কতশত ব্যস্ততায় ডুবে থাকি, যেন ব্যস্ততার কোনো অন্ত নেই। শহুর জীবনের যান্ত্রিকতার যন্ত্রণা আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে করোনার কারণে গৃহবন্দি হয়ে সময় কাটাতে কাটাতে অনেকে হাঁপিয়ে উঠেছেন। একঘেয়ে এ জীবনের বিস্বাদ থেকে একটু মুক্ত হয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে কার না মন চায়!

বাংলাদেশ যেমনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, তেমনি এর রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। সুন্দরবন, সাগরকন্য কুয়াকাটা, বৈচিত্র্যময় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সিলেটের চা বাগান, চট্টগ্রামের পাহাড়, নিঝুম দ্বীপ, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ছাড়াও এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ, মহাস্থানগড়, সোমপুর বিহার, লালবাগ কেল্লা, পরী বিবির মাজার, আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কার্জন হল, শালবন বিহার, তাজহাট জমিদারবাড়ি ও রাজশাহীর বাঘা মসজিদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে পর্যটনকে শিল্প হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অনেকে এটিকে আমাদের দেশের জন্য সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১০ শতাংশ পর্যটন খাত থেকে আয় করা সম্ভব। অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকরী এ দেশের পর্যটনশিল্পকে আমরা এখনও বিশ্বের বুকে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারিনি। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের কথা এলেই অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, সুযোগ-সুবিধাহীনতা ও দারিদ্রপীড়িত একটি দেশের চিত্রই ফুটে ওঠে। অবকাঠামোগত অসুবিধা, নিরাপত্তাহীনতা, আবাসন  ্যবস্থার অপ্রতুলতা, প্রশিক্ষিত গাইড, দোভাষীর অভাব প্রভৃতি বিষয় আমাদের পর্যটনশিল্প বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটনশিল্পে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলে নিকট ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। পর্যটন এলাকাকে কেন্দ্র করে সেখানকার খেটে খাওয়া মানুষেরাও কিছু অর্থ আয় করার সুযোগ পাবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এ খাতে বিনিয়োগ করে উপকৃত হবে। মার্কেট, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ইকোপার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে উঠছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে টুরিস্ট পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য পর্যটনশিল্পের বিকাশ অপরিহার্য।

মারুফ হোসেন

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..