সারা বাংলা

পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে নীলদরিয়া

আকতারুজ্জামান রানা, পীরগঞ্জ (রংপুর): মধ্য যুগের নীলাম্বর রাজার রাজধানী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নীলদরিয়া পর্যটন কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড নীলদরিয়াকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এক কোটি তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পীরগঞ্জ আসনের এমপি ও স্পিকার ড. শিরীন শামিন চৌধুরী গত ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নীলদরিয়া পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, ১২০০ শতাব্দীর মাঝামাঝি উত্তর জনপদের রাজা ছিলেন নীলাম্বর দেব। নীলাম্ব দেবের অনেক রাজধানী ছিল। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নে নীলদরিয়া নামে পরিচিত একটি এলাকা।
১২০০ শতাব্দীতে বাংলায় যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রভাব ছিল তখন পাক ভারতের রাজধানী ছিল গৌড়ে। লক্ষণ সেন ছিল গৌড়ের রাজা। তারই অধীনে ছিলেন পীরগঞ্জের রাজা নীলাম্বর দেব। সে সময় ১৭ জন পীর আউলিয়া আবির্ভাব হয় পাক ভারতে। এই আউলিয়াগণ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। লোকজন তাদের সঙ্গে সহজে মিশতে এবং কথা বলতে পারায় ইসলাম ধর্মের দিকে ধাবিত হয়। এ খবর গৌড়ে রাজা জানতে পেরে মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সে যুদ্ধে মুসলমানদের সঙ্গে গৌড়ে রাজা পরাজিত হন এবং গৌড় মুসলমানদের দখলে আসে।
১৭ আউলিয়ার মধ্যে শাহ ইসমাইল গাজী (রা.) অন্যতম বলে জানা যায়। তিনি বড় দরগায় আস্তানা স্থাপন করেন। সেখান থেকেই কর আদায়ের জন্য লোক পাঠান হিন্দু রাজা নীলাম্বর দেবের কাছে তার রাজধানী চতরায়। কিন্তু নীলাম্বর মুসলমানদের কর দিতে অস্বীকার করায়। শাহ্ ইসমাইল গাজী (রা.) নীলাম্বর রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
শত্রু পক্ষের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য রাজা নীলাম্বর প্রাসাদের ৫৬ একর জমির চারপাশে ৮০ হাত প্রস্থ এবং ৮০ হাত গভীর একটি পরিখা খনন করেন। পরিখার মাটি দিয়ে প্রাসাদ সুরক্ষিত করার জন্য চারপাশে উঁচু করে ১৪ হাত প্রসস্থ প্রাচীর নির্মাণ করেন। প্রাচীরের দক্ষিণে রাখা একটি মাত্র সদর দরজা। এ দরজা বন্ধ করা হলে প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশ করার কোনো সুযোগ ছিল না।
রাজধানীর সুরক্ষার কাজ শেষ করে নীলাম্বরের সৈন্যরা রাজধানী থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে এসে অসংখ্য গড় তৈরি করেন। সেই গড়ে হাতি পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতে পারত। এখনও সেই গড়গুলো বিদ্যমান। ১২৬০ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে রাজধানীর চারপাশে খননকৃত পরীক্ষার উত্তর-পূর্ব কোনো ভরাট হয়ে যায়। অবশিষ্ট এলাকা এখনও গভীর নীল জলাধার। যে কারণে এলাকাবাসী এর নামকরণ করেন নীলদরিয়া। এ নীলদরিয়াকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোরার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কারণে এক কোটি তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

সর্বশেষ..