প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পর্ষদে ফিরতে বাধা নেই পূবালীর চেয়ারম্যানের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্ষদ সভায় অংশ না নেওয়ায় হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ পেয়েছেন পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও পরিচালক এম কবিরুজ্জামান ইয়াকুব। ফলে তারা আবার পর্ষদ সভায় অংশ নিতে পারবেন।

ব্যাংকটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি পূবালী ব্যাংকের একজন আমানতকারী ও একজন শেয়ারহোল্ডারের করা রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আসফাকুল ইসলাম ও মো. খসরুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চ আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এক পরিচালককে পর্ষদ সভায় অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের ওপর তারা অ্যাপিলেট ডিভিশনে আপিল করেন। পরে গত ১১ ডিসেম্বর অ্যপিলেট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শেষে এ আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে তারা এখন থেকে নিয়মিত পর্ষদ সভায় অংশগ্রহণ ও তাদের নিয়মিত কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারবেন।

জানা গেছে, পূবালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুব অবৈধভাবে প্রভাব খাটিয়ে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘চন্দ্রা স্পিনিং মিলস’-এর নামে বেআইনিভাবে ঋণ মঞ্জুর, রি-শিডিউল, সুদ মওফুকসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। বর্তমানে কোম্পানিটি ১০০ কোটি টাকার লিমিট উপভোগ করছে। হাবিবুর রহমান পূবালী ব্যাংকের পরিচালক থাকা অবস্থায় চন্দ্রা স্পিনিং মিলসের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পূবালী ব্যাংকের কাছ হতে চন্দ্রা স্পিনিং মিলের নামে প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করেন। বিভিন্ন সময় লোন ক্লাসিফাইড হওয়া সত্ত্বেও এদের অবৈধ প্রভাবে ক্লাসিফাইড ঘোষণা করা হয়নি। সর্বশেষ গত ১৫ নভেম্বর তারিখে পূবালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১০৯২তম সভায় কোনো ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই চন্দ্রা স্পিনিং মিলের লোন রি-সিডিউল করে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি নিয়ে ব্যাংকটির পর্ষদে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের অন্য পরিচালক কবিরুজ্জামান ইয়াকুবও প্রথমে চন্দ্রা স্পিনিং মিলসের পরিচালক এবং বর্তমান নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪; ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ ও বিআরপিডি সার্কুলার অমান্য করে এসব কাজ করে আসছেন।

এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ব্যাংকটির একজন আমানতকারী ও একজন শেয়ারহোল্ডার আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন গত ৭ নভেম্বর। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পর্ষদ সভায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।