কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

পাঁচ কার্যদিবস পর সূচক ইতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে টানা পঞ্চম কার্যদিবস পতনের পর গতকাল সূচকের ইতিবাচক গতিতে লেনদেন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ৫০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে প্রধান সূচক ১৫ পয়েন্ট ইতিবাচক হয়। তবে সূচক ইতিবাচক হলেও লেনদেন কমেছে। বাকি দুই সূচকও ইতিবাচক ছিল। গতকাল লেনদেনের শুরুতে শেয়ার কেনার প্রবণতায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। বেলা সাড়ে ১১টার পর ৪৬ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী হয় সূচক। কিন্তু এরপর ফের নি¤œমুখী হয়ে প্রায় সমান্তরাল গতিতে লেনদেন চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচক ১৫ পয়েন্ট ইতিবাচক থাকতে পেরেছে। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে।           

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ দশমিক শূন্য পাঁচ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ২১২ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক চার দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৯৫০ দশমিক ১৫ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৪১৫ দশমিক ৭০ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন এক হাজার ৬১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ২৬০ কোটি ৫১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৬০ কোটি ৮২ লাখ ১১ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ৪০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এদিন ৯ কোটি ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৮ শেয়ার ৯০ হাজার ৪৩৬ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১২২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৩টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা। এরপর খুলনা পাওয়ারের ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে এক টাকা ৭০ পয়সা। এডিএন টেলিকমের  ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে তিন টাকা ৯০ পয়সা। নর্দান জুটের ১১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের আট কোটি ৬২ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। এছাড়া বীকন ফার্মার ছয় কোটি ৫৯ লাখ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের চার কোটি ৯০ লাখ, ন্যাশনাল ফিড মিলের চার কোটি ৬৩ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের চার কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ারের তিন কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।     

আট দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস। দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম। দর বেড়েছে ছয় দশমিক ৪৩ শতাংশ। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের দর ছয় দশমিক ২০ শতাংশ, সন্ধানী ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ দশমিক ১৬ শতাংশ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের চার দশমিক ৮৩ শতাংশ, পদ্মা অয়েলের চার দশমিক ৩৭ শতাংশ, ফাইন ফুডসের চার দশমিক ৩৪ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চার দশমিক ৩১ শতাংশ, ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের চার দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আমরা টেকের দর চার দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে।  

এছাড়া ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ দর কমে পতনের শীর্ষে উঠে আসে জিলবাংলা সুগার মিল। ফাস ফাইন্যান্সের দর ছয় দশমিক ৫২ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, এডিএন টেলিকমের সাত দশমিক ২১ শতাংশ, ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ডের ছয় দশমিক ৯৭ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিংয়ের চার দশমিক ৮৩ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের চার দশমিক ৫৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের সোয়া চার শতাংশ, শাহ্জালাল ব্যাংকের চার দশমিক শূন্য সাত শতাংশ, এসএস স্টিলের দর চার শতাংশ কমেছে।       

অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ২৬ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে সাত হাজার ৭৬১ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৮০৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩৯ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে ৯২টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর।

সিএসইতে এদিন ১৫ কোটি ৫৭ লাখ তিন হাজার ৯৭০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১০ কোটি ৭২ লাখ ৫২ হাজার ৫৩০ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে চার কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে বীকন ফার্মা। কোম্পানিটির চার কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের তিন কোটি ৫৭ লাখ, এডিএন টেলিকমের এক কোটি ১৬ লাখ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ৫০ লাখ, বেক্সিমকোর প্র০ায় ৩৪ লাখ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ১৯ লাখ, খুলনা পাওয়ারের সাড়ে ১৫ লাখ, সিঙ্গার বিডির ১৫ লাখ, স্কয়ার ফার্মার সাড়ে ১৩ লাখ ও ন্যাশনাল ফিড মিলের সাড়ে ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।    

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..