বিশ্ব বাণিজ্য

পাঁচ দেশের পণ্য আমদানি বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

জোরপূর্বক কাজ করানোর অভিযোগ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জোর করে কাজ করানোর অভিযোগ এনে চীন ও মালয়েশিয়াসহ পাঁচ দেশ থেকে কয়েকটি পণ্য আমদানি বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) চলতি সপ্তাহে পাঁচ ধরনের পণ্য আটকে দেয়। উইথহোল্ড রিলিজ অর্ডারের মাধ্যমে তারা এ ব্যবস্থা নেয়। এর উদ্দেশ্য, জোর করে কাজ করানোর মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য যেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ না করে। খবর রয়টার্স।
১৯৩০ সালের পর থেকেই জোর করে কাজ করানোর মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে কংগ্রেসে আইনটি পরিবর্তন হওয়ার আগ পর্যন্ত এর তেমন কোনো প্রয়োগ দেখা যায়নি।
প্রতি বছর ৪০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের জোরপূর্বক শ্রম দ্বারা তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিউম্যান ট্রাফিকিং ইনস্টিটিউট। ২০১৬ সালের এ আইন প্রণয়নের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় দশমিক তিন মিলিয়ন ডলারের জোরপূর্বক শ্রম দ্বারা তৈরি পণ্য আমদানি আটকে দিয়েছে সিবিপি।
সোমবার জারি করা নির্দেশে পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার চীন ও মালয়েশিয়া, আফ্রিকার জিম্বাবুয়ে ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল। সিবিপি কমিশনার মার্ক মরগ্যান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যের অনেকটা অংশজুড়েই থাকে বৈধ বাণিজ্য ও ভ্রমণ। পাঁচটি দেশের ব্যাপারে বিবৃতি জারি করে আমরা বোঝাতে চেয়েছি, সেগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হলে যুক্তরাষ্ট্র তা চায় না।
এর আগে চলতি বছর এমন একটি নির্দেশ জারি করেছিল দফতরটি। এ নির্দেশনা জারির ক্ষেত্রে সিবিপির নির্ভরযোগ্য তথ্য দরকার হয়। যেখানে বলা থাকবে যে সংশ্লিষ্ট পণ্য জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি উপায়ে এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও স্থানীয় সংগঠনগুলো থেকে এ তথ্য পায় তারা।
আমদানিকারক পণ্যগুলো আবার রফতানি করে দিতে পারেন, কিংবা সরকারের সামনে প্রমাণ হাজির করতে পারেন যে, এগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত নয়। তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেগুলো উম্মুক্ত করা সম্ভব।
মার্কিন শ্রম বিভাগ গত বছর বলেছিল, তারা শ্রমিকদের দারা জোরপূর্বক কাজ করানোর মাধ্যমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। এতে বিশ্বব্যাপী ওইসব শ্রমিক তাদের প্রতি করা অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা পাবেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের মতে, বিশ্বের ২৫ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক করানো শ্রমের শিকার।

সর্বশেষ..