প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ রফতানি প্রবৃদ্ধি ইন্দোনেশিয়ার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের নভেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে রফতানি বৃদ্ধির এ হার সর্বোচ্চ। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যমতে, গত মাসে দেশটি থেকে মোট ১৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রফতানি হয়েছে। পরিমাণের দিক থেকেও ১৭ মাসের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ। আর আগের বছরের তুলনায় রফতানি বৃদ্ধির হার ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান সাসমিতো হাদি ওয়াইবো বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, পামওয়েল, কয়লা ও তামার রফতানি পরিমাণ বেড়েছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ডলারে রফতানির পরিমাণও গত মাসে বেড়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ন্যাটওয়েস্ট মার্কেটের এশিয়ার অর্থনীতি বিশ্লেষক ভেনিনদার সিং বলেন, চাহিদা বৃদ্ধি ও একই সঙ্গে দেশটির পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রফতানির চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার আমদানি বেড়ে ১২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ওই সময় দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে ৮৩৮ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল এক দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রত্যেক মাসেই বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল।

প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর ইন্দোনেশিয়ায় পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

২০১১ সালে দেশটি থেকে মোট ২০৩ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রফতানি হয়েছে। গত বছর এ রফতানি পরিমাণ ১৫০ দশমিক চার বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। রফতানিতে এ পতনের ফলে সরকারি থেকে বেসরকারি কোম্পানি সব খাতেরই আয় কমে যায়।

সেপ্টেম্বরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইন্দোনেশিয়ার আমদানি ও রফতানি উভয়ই কমেছে। সব মিলিয়ে ওই সময়েও নিম্নমূখী ধারায় ছিল দেশটির এ খাত।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রফতানি কমেছে ৯ দশমিক চার শতাংশ। ওই সময় মোট রফতানি হয়েছে ১১৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য। অন্যদিকে একই সময় আমদানিও আট দশমিক ছয় শতাংশ কমে হয়েছে ১০৭ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি পণ্যের দাম ও চাহিদা ওই সময়ে কম ছিল। ফলে রফতানিতে তখন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরিশোধিত তেল ও তাপ কয়লা রফতানিতে বিশ্বের বৃহত্তম এবং রাবার ও কোকো রফতানিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ইন্দোনেশিয়া। এছাড়া দেশটি তামা খনিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম দেশটি চলতি বছরে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ ও আগামী বছর পাঁচ দশমিক এক শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে।