বিশ্ব সংবাদ

পাঁচ মাসে বিশ্ব পর্যটনে ক্ষতি ৩২ হাজার কোটি ডলার

শেয়ার বিজ ডেস্ক : চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসে বিশ্ব পর্যটন খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩২ হাজার কোটি ডলার। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন

সংস্থার সম্প্রতি প্রকাশিত হিসাবে এ চিত্র উঠে এসেছে। এক রিপোর্টে সংস্থাটি বলেছে, ২০০৯ সালের বিশ্ব আর্থিক সংকটের সময় যতটা ক্ষতি হয়েছিল, এই ক্ষতি তার তিনগুণ। খবর: বিবিসি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত এখন গোটা বিশ্ব। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নিতে হয়েছে লকডাউনের মতো পদক্ষেপ। আর এর ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যও।

এই কয়েক মাসে পর্যটকের সংখ্যা কমেছে ৩০ কোটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৫৬ শতাংশ কম। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল জুরাব পোলোলিকাশভিলি বলেছেন, পর্যটনে এই নাটকীয় ধস লাখ লাখ মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এর আগে এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড বলেছিল, করোনা মহামারিতে বিশ্বের পর্যটন খাতের তিন ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে লোকসান হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে সংস্থাটি বলছে, এ খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ে গেছে। মহামারির কারণে পর্যটন ব্যবস্থা যত দিন ব্যাহত হবে, ক্ষতি তত বাড়তে থাকবে।

ওই প্রতিবেদনে আঙ্কটাড জানিয়েছে, যদি লকডাউনের পুরোটাই হিসাব করা হয়, তাহলে মহামারিতে বিশ্বের পর্যটন খাতে এরই মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে লোকসান হয়ে গেছে, যা বিশ্বের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির দেড় শতাংশ। যদি লকডাউন বা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চার মাসের পরও বহাল থাকে, তাহলে এই লোকসান পৌঁছাতে পারে দুই ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে, যা বিশ্বের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় তিন শতাংশ। মহামারিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিধিনিষেধ ১২ মাস বহাল থাকলে ক্ষতি হয়ে যেতে পারে তিন দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার।

সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, পর্যটননির্ভর সব দেশের কর্মসংস্থান আর রাজস্ব আয় এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পর্যটননির্ভর একটি দেশের পর্যটনে রাজস্ব আয় ১০ লাখ ডলার কমলে জাতীয় আয় ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হবে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়।

পর্যটন খাত বিপর্যস্ত হলে এ ক্ষতির বোঝা টানতে হবে উন্নত দেশগুলোকেও। যুক্তরাষ্ট্রের লোকসান হতে পারে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার কোটি ডলার। চীনের লোকসান হতে পারে ১০ হাজার কোটি ডলার। সর্বাধিক পর্যটক সমাগম হয় এমন দেশগুলো, যেমন জার্মানি, থাইল্যান্ড ও ফ্রান্সের লোকসান হতে পারে মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..