বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও খুচরায় অপরিবর্তিত

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আতঙ্কে নিত্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতার। ভোক্তার অতিরিক্ত ক্রয় ও মজুতকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে। দিন ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তবে সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং শুরু হলে পাইকারি বাজারে কিছুটা দামে কমেতে দেখা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদাকে কেন্দ্র করে খুচরা পাইকারের দ্বিগুণ দামে পেঁয়াজ বিক্রয় করছে ব্যবসায়ীরা। 

দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বৃহস্পতিবার ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রয় হয় ৩০-৩২ টাকা, যা শুক্রবারে বেড়ে দাঁড়ায় ৬০-৬৫ টাকা। তবে গত শনিবার সকাল থেকে বাজার মনিটরিং শুরু হলে একই পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রয় করতে দেখা যায়। যদিও আমদানি মূল্য ২৪-২৫ টাকার বেশি নয়। তবে দিন ব্যবধানে পাইকারিতে ১০-১৫ টাকা কমলেও চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজার ৮০-৯০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রয় হতে দেখা গেছে।

সরজমিনে, চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার, কাজীরদেউড়ি, বহদারহাট, অক্সিজেন মোড়, সিমেন্ট ক্রসিং, ইপিজেট, সল্টগোলা প্রভৃতি বাজার কাঁচাবাজারে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রয় হতে দেখা যায়।  

চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় পেঁয়াজের দাম কমে যায়। ভালোমানের ভারতীয় পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দরে বিক্রয় হয়েছিল। হঠাৎ করোনা-আতঙ্কে শুক্রবার পেঁয়াজের দাম দেড়ে যায়।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মেসার্স বেঙ্গল ট্রেডার্সের স্বত্বাদিকারী উত্তম কুমার সাহ শেয়ার বিজকে বলেন, আমদানিকারকারা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করে, আমাদের হাতে দাম বাড়ানোর ক্ষমতা নেই। অতিরিক্ত চাহিদার ও গুজবে কারণে শুক্রবার পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে ভারতীয় পেঁয়ার আমদানি বাড়াতে শনিবার দাম আবার কমে যায়।

আর মেসার্স আল মারুয়া বাণিজ্যালয়ের মো. দুলাল চৌধুরী বলেন, শনিবার সকালে ২০-২২ ট্রাক ভারতীয় পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জ বাজারে আসে। এর পর পেঁয়াজের দাম কমে যায়। তিনি বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা, আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রয় হচ্ছে ৪০ টাকায়। পাশাপাশি রসুন বিক্রয় হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায় আর আদা বিক্রয় হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা। তবে সকালে (শনিবার) মোবাই কোর্ট পরিচালনা করতে দেখা যায়। এর ফলেও কিছুটা দাম কমেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জমান শেয়ার বিজকে বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি কাঁচা বাজার তদারকি করেছি। এসব বাজারে মূল্য তালিকা না থাকা জন্য কয়েকজন ব্যবসায়িকে জরিমান করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে বিক্রয় না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর ফলে ২৫-৩০ টাকা টাকার পেঁয়াজ ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার চীন, তুরস্ক, মিসর, মিয়ানমার থেকে আমদানি করে বাজার সামলানোর চেষ্টা করে। তবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর চলতি মাসে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..