বাণিজ্য সংবাদ

পাইলটদের ফ্লাইট সেফটিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

ইফাআলফা’র সম্মেলনে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আকাশপথে চলাচলকারী যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি পাইলটদের ফ্লাইট সেফটিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ফ্লাইট অপারেশন করার ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গায় দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিরাপত্তার খাতিরেই নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে চার দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের (ইফাআলফা) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সব অংশীজনকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেন, ‘বিমান পরিচালনা একটি পেশাগত দক্ষতার বিষয়। ফ্লাইট অপারেশন করার ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গায় দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিরাপত্তার খাতিরেই নিশ্চিত করতে হবে। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি মাথায় রাখলে বিমান দুর্ঘটনা সংক্রান্ত যে কোনো বিষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা আমাদের সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ আধুনিকায়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় অচিরেই তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হবে। এছাড়াও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও যশোর বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালীকরণসহ নতুন টার্মিনাল ভবনের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের উদীয়মান এভিয়েশন খাত বিকাশে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। এভিয়েশন খাতের বিকাশে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভিস্টিগেশন গ্রুপের (এএআইজি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এম রহমতউল্লাহ বলেন, ‘আধুনিক যুগে এবং পূর্বেও যতগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তার কারণ, পাইলটদের অনিরাপদ অবতরণের চেষ্টা। কিন্তু পাইলট যদি অবতরণ না করে গো অ্যারাউন্ড করে আবার চেষ্টা করতেন, তাহলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটত না। গত ২০ বছরে অবতরণের সময় ৯৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে গো অ্যারাউন্ড না করার কারণে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কিছু কন্ডিশন আছে, এক হাজার ফুটের মেঘের মধ্য দিয়ে যদি ইন্সট্র–মেন্ট ম্যাটোলজিক্যাল কন্ডিশনে ফ্লাইট চলে তখন যেন উড়োজাহাজ স্ট্যাবিলাইজড হয়। আর ভিজুয়্যাল ম্যাটোলজিক্যাল কন্ডিশনে ৫০০ ফুটের মধ্যে আসতে উড়োজহাজ যেন স্ট্যাবিলাইজড হয়। অর্থাৎ উড়োজাহাজের গতি, ডাইরেকশন, ইঞ্জিন পাওয়ার, ডিসেন্ট রেট ঠিক থাকতে হবে। তাহলেই পাইলট উড়োজাহাজ নিয়ে অবতরণ করবে। এসব একটিও যদি ঠিক না থাকে এবং ফিজিক্যাল কনফিগারেশন ঠিক না থাকলে, অবতরণ করা ঠিক হবে না। তখন পাইলটকে গো অ্যারাউন্ড করতে হবে। বাংলাদেশ ফ্লাইট সেফটিতে এগিয়ে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে তিনটি সেফটি সেমিনার হয়েছে। আমাদের দেশি যত এয়ারলাইনস আছে তারাও সেফটি বিষয়ে সচেতন। বাংলাদেশ পাইলট প্রশিক্ষণ খুবই ভালো। বাংলাদেশি পাইলটরা বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনসে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।’

ইফাআলফা’র সম্মেলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মূলত এশিয়ার প্যাসেফিক মিটিংটা করা হচ্ছে, এ অঞ্চলে যে এয়ারলাইনসগুলোর আকাশপথে চলাচলে সেফটির মান আরও বাড়ানো। এটিই হলো মূল উদ্দেশ্য। এ আঞ্চলিক মিটিং সারা বিশ্বেই বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে এভিয়েশন সেক্টরটা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা চাচ্ছি, এ সেক্টরে চলাচলকে কতটুকু সমৃদ্ধ করা যায়। সবাই মিলে কীভাবে আকাশপথকে নিরাপদ করতে পারি, এটি উত্তরোত্তর আরও নিরাপদ হয়; এটি বৃদ্ধি করাই মূল উদ্দেশ্য। এবার বিশ্বের ৩৫টি দেশের ৪৫ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আরও তিন দিন সেফটি ও সিকিউরিটির বিষয়ে আলোচনা হবে।’

ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের পাইলটরা  বিশ্বমানের। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ ধরনের সেমিনার মিটিং অনেক বেশি প্রয়োজন। ফ্লাইট সেফটির বিষয়ে আলোচনা হবে। আমাদের সমন্বয় আরও বাড়লে নিরাপদ বিমান চলচলের মান আরও বাড়বে। আমরা চাচ্ছি, বাংলার আকাশ পুরোটাই যাত্রীদের জন্য নিরাপদ হোক।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল এনামুল বারী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব এয়ারলাইনস পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন জ্যাক নেক্সটার, নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন ইশতিয়াক হোসেন ও বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান।

সর্বশেষ..