প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাউন্ডের দরপতনে ব্রিটেনের রফতানি আয় বেড়েছে

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের নভেম্বর প্রান্তিকে ব্রিটেনের রফতানি আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে। সম্প্রতি পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দরপতন ব্রিটেনের রফতানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর বিবিসি।

ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের   তথ্যমতে, বিদায়ী বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) আগের প্রান্তিকের তুলনায় ব্রিটেনের রফতানি বেড়েছে এক দশমিক এক শতাংশ। আগের প্রান্তিকে রফতানি দুই দশমিক সাত শতাংশ কমেছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পাউন্ডের দরপতনের কারণেই যে ব্রিটেনের রফতানি বেড়েছে, গত প্রান্তিকের চিত্র তা প্রমাণ করে। পাউন্ডের দরপতনে দেশটিতে নভেম্বর প্রান্তিকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতেও উৎপাদন বেড়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আইএইচএস মার্কেটের প্রধান অর্থনীতি বিশ্লেষক ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, ‘দুর্বল পাউন্ড অর্থনীতিতে ইতিবাচক কিছু বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে পণ্য রফতানি বৃদ্ধিতে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এছাড়া রফতানি বৃদ্ধির কারণে ব্রিটেনের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়ছে।’

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ পল হলিংসওর্থ বলেন, পাউন্ডের দরপতন ব্রিটেনের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যেটা খুই উদ্দীপক চিহ্ন।

তবে রফতানিতে ইতিবাচক চিহ্ন থাকলেও নভেম্বরে দেশটির সার্বিক অর্থনীতি ছিল নেতিবাচক। পণ্য ও সেবা খাতে বাণিজ্য ঘাটতি নভেম্বরে চার দশমিক দুই বিলিয়ন পাউন্ড ধরা হয়েছে। অক্টোবরে এটি ছিল দুই দশমিক চয় বিলিয়ন পাউন্ড। শুধু পণ্য খাতে নভেম্বরে ঘাটতি হয়েছে ১২.২ বিলিয়ন পাউন্ড। অক্টোবরে ছিল দুই দশমিক তিন বিলিয়ন পাউন্ড। সব মিলিয়ে নভেম্বর প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি দশমিক এক বিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে ৩৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড হয়েছে।

চলতি বছরের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট গণভোটের পর অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দরে প্রায় ১৬ শতাংশ পতন ঘটে। এ দরপতনে বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।

সম্প্রতি কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রির (সিবিআই) এক জরিপে দেখা গেছে, গত তিন মাসে আড়াই বছরের মধ্যে রফতানি পরিমাণ বেশি হারে বেড়েছে। আগামী তিন মাসে রফতানি আদেশ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৪৫৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিবিআই জরিপ চালিয়ে দরপতনের প্রভাব বের করার চেষ্টা করেছে। তাতে দেখা গেছে, রফতানি খাতে ব্যাপক উন্নয়নসাধিত হয়েছে। তবে উৎপাদনকারীরা দক্ষ কর্মশক্তির সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে শঙ্কিত। ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ সিবিআই’র কাছে স্বীকার করেছে, দক্ষ কর্মশক্তির অভাবে আগামী কয়েক মাস উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে দেশটির মূল্যস্ফীতিতেও পাউন্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতি বেড়ে এক শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মাসে যা ছিল দশমিক ছয় শতাংশ। পোশাক, হোটেল কক্ষ ভাড়া ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে।

দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগের (ওএনএস) তথ্যমতে, ২০১০ সালের পর সেপ্টেম্বরে পোশাকের দাম সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এক বছর আগে জ্বালানির দরপতন হলেও সম্প্রতি তা আবার বেড়েছে। তবে দেশটির মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিয়ের পতনের কারণেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ুুকি-না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না ওএসএস।

তথ্যমতে, ২০১৪ সালের জুনের পর মাসিক হিসাবে এটাই মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ বৃদ্ধি এবং ওই বছরের নভেম্বরের পর এটাই (এক শতাংশ) সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি চিত্র দেশটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ চিত্র দেখেই বছরের পরবর্তী মাসের হার নির্ধারিত হয়।

এদিকে ব্রেক্সিটের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে যে ঝুঁকি দেখা দিয়েছিল, তা কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটেনের তুলনায় ইইউ’র অর্থনীতি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।