দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

পাওনা পরিশোধে আগ্রহী নন ফরিদুল আলম

ঋণখেলাপি

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জাহানাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল আলমের মূল ব্যবসা ছিল জাহাজ আমদানি ও জাহাজ ভাঙা। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি ঋণ সুবিধা নেন একাধিক ব্যাংক থেকে। পরে ব্যবসায়িক ব্যর্থতায় খেলাপি তালিকায় ওঠে তার নাম। কিন্তু ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আড়ালে থাকেন। এসব খেলাপি ঋণ এখন গলার কাঁটা হয়ে আছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর।

সূত্রমতে, ফরিদুল আলম এফএমএস ইস্পাত শিপব্রেকিং ও আলী স্টিল এন্টারপ্রাইজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরাতন জাহাজ আমদানি এবং ভাঙার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা নেন। সময়ের সঙ্গে ব্যবসার পরিধিও বাড়াতে থাকেন। কিন্তু তার অদূরদর্শী প্রকল্প গ্রহণ, প্রাতিষ্ঠানিক অসক্ষমতা ও ব্যবসায়িক অনভিজ্ঞতার কারণে ছন্দপতন হয় ব্যবসায়। এতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করে বিপদে পড়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যা এখন গলার কাঁটা হয়ে আছে।

পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন এফএমএস ইস্পাত শিপব্রেকিংয়ের কাছ থেকে ৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা খেলাপি পাওনা আদায়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে মামলা করে। যদিও এর আগে বেশ কবার পাওনা আদায়ে চেষ্টা করেও ব্যাংক ব্যর্থ হয়। অপরদিকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখা থেকে নেওয়া ঋণও এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়ে। তার মালিকানাধীন আলী স্টিল এন্টারপ্রাইজের কাছে ব্যাংকটির খেলাপি পাওনার পরিমাণ ৬৯ কোটি ৫৭ হাজার ৬৩ হাজার ৫২৮ টাকা। আর পাওনা আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বন্ধকিতে থাকা সব স্থায়ী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এফএমএস ইস্পাত শিপব্রেকিং ও আলী স্টিল এন্টারপ্রাইজ ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাহাজ ভাঙার জন্য কোনো জাহাজ আমদানি করেনি। এদিকে বাংলাদেশ শিপব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেল অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক সদস্য ও কর্মকর্তা জানান, ফরিদুল আলম কিংবা মাবিয়া গ্রুপের জাহাজ ভাঙার ব্যবসায়িক অবস্থা ভালো নয়। কয়েক বছর যাবৎ জাহাজ ভাঙা বন্ধ আছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা আড়ালে চলে যান। এছাড়া তাদের জাহাজ ভাঙার সদস্যপদও হালনাগাদ নেই।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক শেয়ার বিজকে বলেন, ফরিদুল আলম মাবিয়া গ্রুপের পরিচালক। আর মাবিয়া গ্রুপ তো অনেক বড় ঋণখেলাপি গ্রুপ। এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি পাওনা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। বারবার তাগাদা দিয়েও অর্থ আদায় করতে না পেরে মাবিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে চেক প্রত্যাখ্যান ও অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে পাওনাদার ব্যাংকগুলো। ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায়ও প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ঋণের সমুদয় অর্থ আদায় সম্ভব হবে না।

পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম শেয়ার বিজকে বলেন, এফএমএস ইস্পাত শিপব্রেকিং আমাদের খেলাপি গ্রাহক। খেলাপি পাওনা আদায়ে আমরা অনেক চেষ্টা করেছি; কিন্তু তা পরিশোধে গ্রাহক তেমন আগ্রহী নন। এমনকি রি-শিডিউলের আবেদনও করেনি। তাই পাওনা আদায়ে মামলা করা হয়। আমাদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থানে আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নন কিন্তু ঋণ পরিশোধে আগ্রহী, তাদের আমরা প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে আইন, নিয়ম-নীতি মেনে সহযোগিতা করব।’

অপরদিকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন আলী স্টিল এন্টারপ্রাইজ আমাদের খেলাপি গ্রাহক। এক বছরের অধিক সময় ধরে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করছে না তারা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের কাছে খেলাপি পাওনার পরিমাণ ৬৯ কোটি ৫৭ হাজার ৬৩ হাজার টাকা। তাই পাওনা আদায়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বন্ধকিতে থাকা শিপইয়ার্ডসহ মোট ছয় একরের বেশি জমি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করছে। এ নিলাম আগামী ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় যদি আদায় না হয়, তাহলে আমরা অর্থঋণ আদালতে মামলা করব।   

এ বিষয়ে জানতে ফরিদুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস প্রেরণ করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি। আর অফিসে গিয়েও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..