দিনের খবর সারা বাংলা

পাকা সড়কের অভাবে ভোগান্তিতে ধলঘাটাবাসী

কাইমুল ইসলাম ছোটন, কক্সবাজার: কক্সবাজারের ধলঘাটা ইউনিয়নে নানা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (বেজা), সিপিপি গ্যাস লাইন, ধলঘাটা-মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রভৃতি রয়েছে। তবে সংস্কার হয়নি ধলঘাটার প্রধান সড়কটি। সড়ক পথে জেলা বা চট্টগ্রামে যাওয়ার একমাত্র প্রধান সড়ক এটি।

সড়কটি নিয়ে লবণ চাষি নুরুল হোসাইন বলেন, যেন আদিম যুগে বাস করছি, যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। ধলঘাটায় কত উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। অথচ রাস্তা দিয়ে বর্ষাকালে মানুষ চলাচল করতে পারে না। ডুবে যায় পানিতে। নির্বাচন আসলে কত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাস্তা পাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয় না।

ধলঘাটা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার ও রাসেল বলেন, এই রাস্তাগুলো পাকাকরণ হয়নি। যানবাহন আসতে চায় না এ সড়কে। ২৫ বছরে রাস্তায় ইট সলিং না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। আমরা সাহায্য চাই না, রাস্তা পাকাকরণ চাই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলঘাটার এ প্রধান সড়কটি  খানাখন্দে ভরা। বিশেষ করে নাছির ডেইল-পানির ছড়া-শরইতলার প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে কোনো ইট সলিং হয় নেই। দক্ষিণ সুতুরিয়া-সাপমারার ডেইল ইট সলিং হলেও খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে জেলা বা চট্টগ্রামে যোগাযোগ করতে নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। এমন অবস্থা হলেও রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

বর্ষাকালে প্রধান সড়ক নদী নালায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ অবস্থায় রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক শফিউল আলম বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে গাড়ি প্রায় বিকল হয়ে পড়ছে। বড় বড় গর্তে গাড়ি পড়ে আটকে যায়। ফলে যাত্রী নিয়ে চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। ঘটে নানা দুর্ঘটনা।

পথচারী রণধীর শীল একজন বলেন, ধলঘাটার সবকিছু বদলে গেছে, বদলায়নি এ সড়কটি। বৃষ্টি নামলে তো কথাই নাই। অন্তত ইট সলিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে হয়ত ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারব।

ধলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালেহ আহমেদ জানান, রাস্তা পাকা না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়েন। গায়ে কাদা লেগে যায়, বর্ষাকালে নৌকা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে অনেক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, এটা রাস্তাটি বারবার হাত বদলের কারণে হচ্ছে না। প্রথমে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সংস্কারের কথা বললেও তার কার্যকর হয়নি। এখন জাইকার অর্থায়নে রাস্তাটি হবে। তাহলে ধলঘাটা ইউনিয়নবাসী একটা টেকসই রাস্তা পাবে।

মহেশখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে শেয়ার বিজকে জানান, প্রথমে আরসিআইপির একটি প্রজেক্টে রাস্তাটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাই পাঁচ ফুট উঁচু করে রাস্তা করার কথা থাকলেও নানা কারণে হয়নি।

ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শেয়ার বিজকে বলেন, এটা রাস্তাটি বারবার হাত বদলের কারণে হচ্ছে না। প্রথমে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক করার কথা থাকলেও হয়নি। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে রাস্তাটি হবে। তবে ধলঘাটা ইউনিয়নবাসী একটা টেকসই মজবুত রাস্তা পাবে। তিনি রাস্তাটি টেকসই করার জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছেন বলে জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..