আজকের পত্রিকা দিনের খবর শেষ পাতা সারা বাংলা

পাকিস্তানের ছেলে, বাঙালি মেয়ে, করোনায় অনলাইনে বিয়ে

প্রতিনিধি, জয়পুরহাট: করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে ওলটপালট করলেও ভালোবাসার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জয়পুরহাট ও পাকিস্তানের প্রেমিক যুগল অনলাইনে বিয়ে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে সেই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ী এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে মোবাইল ফোনে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

তাদের পারিবারিক সূত্র জানায়, মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল’-এ লেখাপড়া করছেন ২০১৮ সাল থেকে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন সাবরিনা।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমারের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শাহরুখনে আলম কলোনির যুবক মুহাম্মদ উমেরের সঙ্গে। উমেরের বাবা বিলাল আহম্মেদ বড় ধরনের সবজি ও ফলমুল ব্যবসায়ী।

অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে। এরপর উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের ও তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমেরের পরিবারের বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু বাদ সাধে করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায় তাদের ভালোবাসার বিয়ে। বিয়ে স্থগিত হলেও সাবরিনা এবং উমের অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন।

তাদের প্রেমের এই সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়তমতে, অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমেরের বাবা বিলাল আহম্মেদ। তিনি তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে উভয় পরিবার বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় অনলাইনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

সে অনুযায়ী ওইদিন বিকাল ৫টায় সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিজুর রহমান।

এ সময় অনলাইনে সাবরিনার কবুল পড়া শোনানো হয় বর উমের ও তার বাবা বিলাল অহম্মেদকে। একইভাবে অনলাইনে উমেরও তার প্রেমিক মুরসালিন সাবরিনাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করে নেন।

মুরসালিন সাবরিনার বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, মেয়ের সঙ্গে পাকিস্তানি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক প্রথমে তিনি মেনে নিতে চাননি। কিন্তু পরে তাদের খোঁজখবর নিয়ে খুব ভালো লেগেছে। তাদের পরিবার খুবই ভালো। তাই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে অনলাইনেই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জামাই ও তার পরিবার দেশে এসে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মেয়েকে নিয়ে যাবেন। তিনি মেয়ে-জামাইয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..