সম্পাদকীয়

পাক-ভারত শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ অনিবার্য

ব্রিটিশদের কাছ থেকে আদায় করা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত দুটি রাষ্ট্রের জন্ম। বিভাজনটি কাশ্মীরের ভাগ্য মীমাংসা করেনি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলের দাবি ছিল পাকিস্তান, ভারত অথবা স্বাধীনতাকে ঘিরে। বর্তমানে অঞ্চলটি না ভারতের, না পাকিস্তানের, না চীনের। গোলামির লাগামমুক্ত স্থির ভাগ্যন্বেষণে কাশ্মীরবাসীর ১৯৪৭-পরবর্তী লালিত স্বপ্ন বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ছিনিয়ে নেওয়া হলো ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরিদের বিশেষ মর্যাদা। ফলে ভারতের সঙ্গে তারা যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল, তা ছিন্ন হয়ে ১৯৫০ পূর্ববর্তী ইচ্ছাধীন দশায় পরিণত হলো। এখন পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রদ্বয় আবারও নতুন করে কাশ্মীরকে নিজের করে নেওয়ার যুদ্ধে মেতে ওঠার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রসারণবাদ, আধিপত্যবাদ কিংবা জনমিতি বহু অর্থেই কাশ্মীরের এ অস্থিরতাকে ব্যাখ্যা করা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি ও ধর্ম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরে ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক ভিত্তি মুসলিম জাতিস্বার্থ সংরক্ষণে ছিল তৎপর। প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ও সংঘাতময় প্রতিবেশী ভারত বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিশেলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের উত্তাপ নিয়ে পাকিস্তান বিদ্বেষের মোক্ষ স্থির করে নিল। সাংবিধানিক ভিত্তি পেল ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু ধর্ম হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ধারা ভারতে বারবার ক্ষমতায় এলেও ধর্ম ইসলামের রাজনৈতিক ধারা পাকিস্তানে ক্ষমতার চর্চা করতে পারেনি। কাশ্মীর ইস্যুতে এর আগে দুবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। পরে বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে কাশ্মীরবাসী ভারতের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অত্যাচারে বারবার হতাশ হয়েছে। বর্তমানে বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ভারত ‘কাশ্মীর হারাচ্ছে’ মন্তব্য চাউর হলো। সামরিক নয় রাজনৈতিক সমাধানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবনা ভারত উপেক্ষা করলে আঞ্চলিক অস্থিরতায় গন্ধ ছড়াল; পাঁচ লাখ সৈন্য মোতায়েনের পরেও ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকের চোখে ‘মৃত্যুকে ভয় না করা’ কাশ্মীরি তরুণদের অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হলো। ভারতের এ অরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বর্তমানে কাশ্মীরি শিক্ষিত ও ধনী বিদ্রোহী তরুণদের মাঝে ধর্মের গন্ধ বা জনমিতি যুদ্ধের আওয়াজ দেখছেন বিশ্লেষকরা, যার পেছনে উঁকি দেয় ইহুদিবাদের অনুরোধে ব্রিটিশের কাশ্মীরকে অমীমাংসিত রাখার লুপ্ত ইতিহাস। ভারত যদি কাশ্মীরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমিতি পরিবর্তনে অপ্রতিরোধ্য তরুণদের মুখোমুখি হয়, তবে নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের সহযোগিতায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দামামা বাজে। তা স্পষ্ট হলো ভারতের স্বাধীনতা দিবসেই।
এখন বেকারত্ব ও নিপীড়নের স্থানীয় এবং পাক-ভারত আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানে বিশ্বব্যাপী আওয়াজ না উঠলে অঞ্চলিক অরাজকতার প্রভাবে আমাদেরও পুড়তে হবে। তাই সবার উদ্যোগ প্রত্যাশিত।

সর্বশেষ..