কৃষি কৃষ্টি

পাঙাশ চাষের কলাকৌশল

কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে পাঙাশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। আজকের আয়োজন এ মাছের নানা দিক নিয়ে চাষের কলাকৌশল
অনেকে পাঙাশ পছন্দ করেন। আবার অনেকেই করেন না। কারণ, এ মাছের গন্ধ অনেকের সহ্য হয় না। তবে দেশের প্রায় সব বাজারে এর ব্যাপক উপস্থিতি চোখে পড়ে। তাছাড়া মৎস্যভোজীদের কাছে এ মাছ বেশ পছন্দের। কেননা, এ মাছে কাঁটা কম থাকে। সহজে খাওয়া যায়। তাই চাহিদা পূরণের জন্য অনেকেই এ মাছ চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
শুধু আগ্রহ থাকলেই চলবে না। এ মাছ চাষের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় মেনে চলতে হবে। যেমন, চাষ পদ্ধতি নির্ভর করে পুকুর বা জলাশয়ের বৈশিষ্ট্যের ওপর। এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত অবস্থা, পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, পুঁজি, মানসম্মত পোনা প্রাপ্তি, বাজার ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয় মাথায় রেখেই শুরু করতে হয়।

স্থান নির্বাচন
সফল চাষের জন্য স্থান নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। যে পুকুর বা জলাশয়ে সূর্যের আলো পড়ে ও বাতাস চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় না এমন পুকুর নির্বাচন করতে হবে। পাঙাশ চাষের জন্য দোআঁশ মাটির পুকুর সবচেয়ে ভালো। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যাতে দ্রুত পানি পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। অর্থাৎ পানির প্রবাহ যেন ঠিক থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পুকুর প্রস্তুতি
পুকুর প্রস্তুতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মাছের বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা। নির্বাচন করার পরের কাজটি হলো পুকুরকে ভালোভাবে প্রস্তুত করে নেওয়া। কয়েকটি ধাপে পুকুর প্রস্তুত করা যায়:
# পাঙাশ চাষের পুকুর আয়তাকার হলে ভালো। তাই আয়তাকার করে নিতে হবে। পুকুরের তলা ভালোভাবে সমতল করে নিতে হবে। সম্ভব হলে তলার মাটি লাঙল দিয়ে চাষ করে নিতে পারেন। পানির গভীরতা এক দশমিক পাঁচ থেকে দুই মিটার পর্যন্ত রাখা জরুরি
# বর্ষা কিংবা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে যেন পুকুর ভেঙে না যায়, সেজন্য আগে থেকেই বাঁধ দিতে হবে
# পুকুরে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জলজ আগাছা থাকলে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে
স পাঙাশ চাষের পুকুরে অপ্রয়োজনীয় ও রাক্ষুসে মাছ, যেমন শোল, বোয়াল, গজার, টাকি, বাইম, মলা, ঢেলা প্রভৃতি মাছ অপসারণ করতে হবে
# পুকুরকে মাছ চাষের উপযুক্ত ও টেকসই করতে চুন প্রয়োগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। চুন প্রয়োগের আগে গুঁড়ো-মিহি করে নিলে এর কার্যকারিতা অনেকগুণ বেড়ে যায়
# পুকুরের প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত চুন দেওয়ার পাঁচ দিন পর সার দিতে হয়। নতুন ও বেলে মাটির পুকুরে জৈবসার বেশি দিতে হবে। তবে পুরাতন কাদাযুক্ত পুকুরে রাসায়নিক সার দেওয়ার হার বেশি হবে। পুকুর প্রস্তুতকালীন জৈবসার হিসেবে গোবর অথবা মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করতে হবে। সারের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য টিএসপি জৈবসারের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহারের আগে ইউরিয়া মিশিয়ে মিশ্রণটি পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার দেওয়ার চার থেকে পাঁচ দিন পর পুকুরের পানির রঙ সবুজ বা বাদামি হলে সাধারণত পোনা মজুতের উপযোগী হবে।

পোনা সংগ্রহ
পুকুরের প্রস্তুতি শেষ হলে গুণগত মানসম্পন্ন পাঙাশ মাছের পোনা সংগ্রহ করতে হবে। পোনাগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যবান, পুষ্ট ও সতেজ হতে হবে। এদের মাথায় মুখের সামনে যে শুঁড় থাকে, তার উজ্জ্বলতা ও অখণ্ডতা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। এজন্য বিশ্বস্ত কোনো হ্যাচারি থেকে পোনা সংগ্রহ করা উচিত। অর্থাৎ সতর্কতার সঙ্গে উন্নত মানের পোনা সংগ্রহ করতে হবে। পোনা পরিবহনের সময় খেয়াল রাখতে হবে, যাতে করে পরিবহনের সময় কোনো ক্ষতি না হয়। পরিবহনের আগেই চৌবাচ্চায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পোনাকে রেখে টেকসই করে নিতে হবে। পরিবহনের সময় পোনাকে বেশি উত্তেজিত করা ঠিক নয়।

সফলতার গল্প শুনি…
কোনো নির্দিষ্ট জলাশয়ে পরিকল্পিত উপায়ে স্বল্প পুঁজি সম্বল করে পাঙাশ চাষ করে সফল হওয়া সম্ভব। কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে এ মাছ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ মাছের কিছু বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে। মাছটি অল্প সময়ে দ্রুত বাড়ে, খাদ্য ও জায়গার জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না। পানির সব স্তর থেকে খাবার গ্রহণ করে। এরা সহজে রোগে আক্রান্ত হয় না। তাই অধিক মাছ উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।
বিভিন্ন গবেষণা করে পাঙাশের নতুন আইটেম তৈরি করছেন গবেষকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, দুবছরের গবেষণায় সব পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে পাঙাশের আচার ও পাউডার তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম নওশাদ আলম ও তার গবেষক দল।
মাছের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাঙাশ চাষে লোকসান ঠেকাতে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ‘মিঠা পানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

পাঙাশের আচার
আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় দীর্ঘদিন (প্রায় এক বছরের বেশি) কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। আচারটির পুষ্টিমান উচ্চশ্রেণির। এতে রয়েছে শতকরা ৩৭ ভাগ আমিষ, ২৮ ভাগ স্নেহ, ১৬ ভাগ মিনারেল ও ১১ ভাগ ফাইবার। হৃদরোগের চিকিৎসায় মাছের তেল অনেক উপকারী। এক কেজি পাঙাশ থেকে ৩৫০ গ্রাম আচার পাওয়া যায়, যা উৎপাদন করতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হয়। ৩৫০ গ্রাম আচার ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। সাধারণ রান্নার যন্ত্রপাতি ও তৈজসপত্র দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে যে কেউ মচমচে পাঙাশ আচার তৈরি করতে পারবেন।

পাঙাশের পাউডার
পাঙাশ একটি চর্বিযুক্ত মাছ। এর চর্বি ও আমিষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ-উপযোগী করে পাঙাশ পাউডার তৈরি করা হয়েছে। এক কেজি পাঙাশ থেকে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম পাউডার তৈরি করা সম্ভব। পাঙাশের পাউডারও দীর্ঘদিন (প্রায় এক বছরের বেশি) কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। এ পাউডার দিয়ে আচার, ভর্তা, স্যুপ, নুডলস, তরকারি, খিচুড়ি প্রভৃতি বানানো যায়। এছাড়া পাউডার দুধ বা নবজাতকের খাবার, বেকারি পণ্য, বিস্কুট, চিপস বা যে কোনো খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ানো যায়। মাত্র দেড় টাকা দামের তিন গ্রাম পাউডার দিয়ে একজনের খাওয়ার উপযোগী ২৫০ মিলি স্যুপ বা ৮০ গ্রাম ওজনের এক বাটি নুডলস তৈরি করা সম্ভব। এর পাউডারে ৪৫ ভাগ আমিষ, ৩২ ভাগ চর্বি, এক ভাগ মিনারেল ও ৯ ভাগ আঁশ রয়েছে।

রোগবালাই ও প্রতিকার
পানির গুণাগুণ ঠিক না থাকলে কিংবা ত্রুটিপূর্ণ চাষ পদ্ধতির কারণে মাছ রোগাক্রান্ত হতে পারে। পাঙাশে যেসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে রোগবালাই সম্পর্কে জেনে রাখতে পারেন।

লেজ ও পাখনায় পচা
অ্যারোমোনাস ও মিক্সোব্যাকটার গ্রুপের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচা রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া পানির ক্ষার কমে গেলে এ রোগ দেখা দিতে পারে। মাছ আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে পিঠের পাখনায় এক ধরনের সাদা দাগ দেখা যায়; পরে বাকি পাখাগুলোও আক্রান্ত হয়। রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। চলাফেরায় ভারসাম্য হারায় মাছ। একসময় মারাও যায়। এ রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য পটাশিয়ামযুক্ত পানিতে আক্রান্ত মাছকে প্রায় পাঁচ মিনিট রাখতে হবে। এ সময় পুকুরে সার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

ড্রপসি
মাছের পেট ফোলা রোগকে ড্রপসি রোগ বলা হয়। এ রোগটিও অ্যারোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। রোগাক্রান্ত হলে মাছের পেট ফুলে বেলুনের মতো হয়ে যায়। পায়ু ফুলে লাল বর্ণ হয়। মাছ চলাফেরায় ভারসাম্য হারায় এবং কিনারায় জমা হয়ে একসময় মারা যায়। এ রোগ প্রতিকারের জন্য আক্রান্ত মাছ বাছাই করে খালি সিরিঞ্জ দিয়ে মাছের পেটের পানি বের করে নিতে হবে। এরপর মৎস্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনজেকশন দিতে হবে।

লার্নিয়া সংক্রমণ
এটি এক ধরনের পরজীবী, যা মাছের গায়ে লেগে থেকে। এতে মাছ বিরক্ত হয়ে
লাফালাফি করতে থাকে। অনেক সময় দুর্বল ও অবশ হয়ে যায়। এ সময় মাছের শরীর নীলাভ-ধূসর রঙ ধারণ করে। এছাড়া ফুলকার টিস্যু ফুলে যায়। ফলে মাছের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রোগটি ছোট মাছকে বেশি আক্রান্ত করে। এর প্রতিকার হচ্ছে, পুকুরকে পরিষ্কার রাখা। পুকুরে চুন দিতে হবে। মৎস্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আক্রান্ত মাছ আলাদা করে চিকিৎসা দিতে হবে।
উকুন
আরগুলাস নামে এক ধরনের উকুন পাঙাশের গায়ে হয়। এর আক্রমণে মাছকে বিভিন্ন কঠিন বস্তুর সঙ্গে গা ঘষতে দেখা যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে গর্ত হতে দেখা যায়। মাছ অনেক সময় গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে। এ স্থানগুলোর চারপাশ ফুলে যায়। আক্রান্ত স্থান দিয়ে পানিতে বিদ্যমান ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াসহ নানা জীবাণু প্রবেশ করে। প্রতিকার হিসেবে আক্রান্ত মাছের শরীর থেকে শল্যচিকিৎসায় ব্যবহƒত চিমটির সাহায্যে উকুন উঠিয়ে ফেলতে হবে। এরপর পটাশ অথবা সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে প্রায় ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে।

ছত্রাকজনিত রোগ
ছত্রাক সংক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ছত্রাক সাধারণত দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণকারী জীবাণু হিসেবে পরিচিত। মাছের ত্বক, পাখনা, ফুলকা ও ডিমের ওপরেরর দিক কোনো কারণে ছিঁড়ে গেলে ছেঁড়া অংশে ছত্রাক সংক্রমিত হয়। ছত্রাক সংক্রমণের ফলে ডিম বা লার্ভি মারা যায়। এ রোগে আক্রান্ত মাছের গায়ে বা ডিমের ওপর সাদা তুলার মতো অবরণ দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর রঙ বাদামি হতে দেখা যায়। ছত্রাক আক্রান্ত মাছ ভারসাম্যহীন হয়ে মারা যায়।
প্রতিকারের জন্য চাষ করা পুকুরে কোনো ধারালো বস্তু ফেলা যাবে না। মাছের পাখনা ও ফুলকা ছিঁড়ে গেলে এদের পানি থেকে তুলে চিকিৎসা করতে হবে, যাতে ছত্রাকে আক্রান্ত না হয়।

সতর্কতা
# পুকুর জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
# পোনা মজুতের আগে চুন দিতে হবে
# মাছ দেখাশোনা করার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের অবশ্যই পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। মাছ ধরা, পরিবহন, জালটানাসহ সব কাজে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে
# উন্নত পরিবেশ ও সুষম খাবার দিতে হবে
# অতিরিক্ত মাছ মজুত পরিহার করতে হবে।

খাবার ও পরিচর্যা
চাষ করা পুকুরে যে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়, তা পাঙাশের জন্য যথেষ্ট নয়। আশানুরূপ ফলনের জন্য সুষম খাদ্য দিতে হবে। চাষ পর্যায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য দিতে না পারলে পাঙাশের উৎপাদন কমে যাবে। খাবারের পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যাও জরুরি।

খাবার
পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার দুদিন পর থেকেই পরিপূরক খাবার দিতে হয়। মাছের খাদ্যের পরিমাণ বয়স ও দেহের ওজনের ওপর নির্ভর করে। খাবার একবারে না দিয়ে তিন ভাগ করে দিতে হবে। প্রথম ১০ দিন যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হবে, পরের ১০ দিনে সে পরিমাণ থেকে একটু বাড়াতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে বাড়াতে তবে। তবে মাছের বয়স পরিপূর্ণ হলে আবার ধীরে ধীরে খাবার কমিয়ে আনতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, মাছ ঠিকমতো সব খাবার না খেলে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে কোনোরকম অস্বাভাবিক আচরণ বা গতিবিধি হচ্ছে কি না।
এদের খাবারে মটর সিদ্ধ, বাদাম, খৈল রাখা আবশ্যক। তাছাড়া মাছের সাধারণ খাবার বাজারে কিনতে পাওয়া যায়, সেগুলোও দিতে পারেন।
পাঙাশের খাদ্যে প্রাণিজ আমিষ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে শুঁটকি মাছের গুঁড়ো, গবাদিপশুর রক্ত, হাঁস-মুরগির নাড়িভুঁড়ি প্রভৃতি দেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া শামুক, ঝিনুক, গবাদিপশুর নাড়িভুঁড়ি ছোট ছোট করে কেটে একত্রে মিশিয়ে বল আকারে পুকুরে দিতে পারেন।

পরিচর্যা
পুকুরের পানির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য মাঝেমধ্যে পানি পরিবর্তন করতে হবে। এক মাস অন্তর চুন ও লবণ একসঙ্গে করে দিতে হবে। অবস্থা বুঝে পটাশ সার ছিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়া পুকুরের তলদেশে জমে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস অপসারণের জন্য দুই থেকে তিন দিন পরপর পুকুরে নেমে পানিগুলোকে এপাশ-ওপাশ করতে হবে। অতিরিক্ত খাবার দিলে উচ্ছিষ্টাংশ জমা হয়ে পুকুরে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। তাই অতিরিক্ত খাবার দেওয়া যাবে না। পুকুরের পানি অধিক সবুজ হয়ে গেলে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। মোট কথা, উন্নত উপায়ে সঠিক পরিচর্যা করে, উপযুক্ত ও সঠিক খাবার দিলে মাছের গুণমান অনেক বেড়ে যায়। এতে গায়ের রঙ, মাংসের রঙ, স্বাদ ও গন্ধ ভালো হয়।

 

সর্বশেষ..