প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাটপণ্যের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থী সিরাজুম মনিরা পাটমেলায় এসে মুগ্ধ হন পাটপণ্যের সৌন্দর্যে। পাট দিয়ে এত ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য হতে পারে সে কল্পনাই করেনি কখনও। তাও আবার এতো সুন্দর! মেলায় প্রতিবেদককে সে জানায়, আগে কখনও সেভাবে পাট বা পাটপণ্যের সংস্পর্শে আসা হয়নি তার। এ মেলাই প্রথম তাকে পাটের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এখন পাটের প্রতি তার ভালোবাসা আরও অনেক বেড়ে গেছে।

মেলায় পাট দিয়ে তৈরি চাদর, জুতা, ভ্যানিটি ব্যাগ, স্কুল ব্যাগ, পর্দা, ওড়নাসহ প্রায় ১৫-২০ ধরনের পাটপণ্য প্রদর্শন করছেন সৈকত হোসেন।  তিনি প্রতিবেদকে জানান, সৈয়দপুরে ৮০’র দশকের পর থেকেই তার পরিবার এসব পাটপণ্য তৈরিতে কাজ করছে। এখন তিনিই ব্যবসা দেখাশোনা করেন। এগুলোর মধ্যে অনেক পণ্যের উদ্ভাবক তার পরিবার। তারাই এসব ডিজাইন করে কর্মী দিয়ে বানিয়ে নেন। এসব বিদেশে রফতানি করা হয়। দেশের মধ্যে কয়েকটি শহরের দোকানে তাদের পণ্য নিয়মিত সরবরাহ করা হয়। এসব জুট হ্যান্ডিক্রাফট থেকে প্রতি মাসে লাখের বেশি টাকা আয় করছেন তিনি।

পাশেই রাহেলা জুট ক্রাফটের একজন অংশীদার বলেন, তিনিও ব্যক্তিউদ্যোগে মালয়েশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য রফতানি করেন। তার অধীন ১০ থেকে ১২ শ্রমিক কাজ করেন। সেসব দেশে এ ধরনের পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

এভাবেই পাটের অসংখ্য বৈচিত্র্যময় পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছেন শত শত উদ্যোক্তা। তারা মিলিত হয়েছেন বহুমুখী পাটপণ্যের তিন দিনের প্রদর্শনীতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে এ মেলা। চলবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত। দেশে প্রথমবারের মতো পাট দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আট দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক মানের পাটপণ্য উৎপাদক দেশি ৬০টি প্রতিষ্ঠান প্রথম এ মেলায় তাদের পণ্য প্রদর্শন করছে। মেলায় নজরকাড়া বিভিন্ন পাটপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিকিকিনিও চলছে। যা গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।

মেলা ঘুরে ক্রেতারা পাট দিয়ে তৈরি জুতা, শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন পাটের গহনা, সোফা-চেয়ারের মতো পাটে মোড়ানো আসবাব, কলমদানি-ফুলদানির মতো সৌন্দর্য বর্ধনকারী পণ্য, দরজা-জানালার পর্দা, ল্যাম্পশেড, গৃহস্থালি পণ্য, বিভিন্ন ব্যাগসহ কয়েকশ ধরনের পাটপণ্য কিনছেন।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা ফরিদার স্টলে মেয়েদের গলার মালা, চুলের ক্লিপ, কানের দুল, চুড়ি কিনতে ভিড় করেন অনেক ক্রেতা। ফরিদা বলেন, তার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন শত শত উদ্যোক্তা আছেন, যারা পণ্য তৈরি করে এলাকায় বিক্রি করেন। কিন্তু তাদের পণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেই। এবারই এমন আয়োজনে খুশি তিনি।

এখানে আগত উদ্যোক্তারা বলছেন, পাট নিয়ে এ ধরনের কাজ করা জনগোষ্ঠী এখনও সাধারণত ছোট পরিসরেই রয়ে গেছে। সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য রফতানির ব্যবস্থা করলে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে পরিবেশবান্ধব এই পণ্যের বাজার। একই সঙ্গে আয় হবে কোটি কোটি টাকা। বাড়বে কর্মসংস্থানও।

এদিকে মেলায় স্টল রয়েছে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটেরও। তাদের স্টলে পাটের তৈরি পলিথিন ব্যাগ (পাট পলিমার) প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেখানের কর্মকর্তারা জানালেন, পরিবেশবান্ধব এবং ব্যবহারের পর মাটিতে সহজে পচনশীল এ পলিব্যাগ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে ভোক্তাদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশ্ববাজারেও এ ধরনের পলিথিনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এদিকে রেণু হ্যান্ডিক্রাফটসে পাটে মোড়ানো সোফা বেশ নজর কাড়ছে আগতদের। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মফিজুল ইসলাম বলেন, মান ও স্থায়িত্বে যে কোনো বিদেশি ফার্নিচারের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম তার সোফা। তবে মানের কারণে দাম একটু বেশি। মেলায় ক্রেতাদের খুব বেশি সাড়া পেয়েছেন তিনি।