প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাটপণ্যে অ্যান্টি ডাম্পিং  শুল্ক: বেনাপোলে দাঁড়িয়ে ৬৮ ট্রাক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারত সরকার বাংলাদেশি পাটপণ্যে উচ্চহারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ করার পর এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রওনা হয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছে বাড়তি শুল্কের বিষয়টি জানার পর দুদিন ধরে সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে পাটপণ্য বোঝাই ৬৮টি ট্রাক। খবর বিডিনিউজ।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদ শফিউল্লাহ জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ ট্রাক পাটপণ্য ভারতে যেত, সেখানে নতুন শুল্কের গেজেট প্রকাশের পর বৃহস্পতি ও রোববার মাত্র তিন ট্রাক পাটপণ্য রফতানি হয়েছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, বাংলাদেশ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছে। এর ২০ শতাংশ গেছে ভারতে, যা সেখানকার বাজারের প্রায় আট শতাংশ।

বাংলাদেশি উৎপাদকরা পাট রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাওয়ায় ভারতীয় পাট মার খাচ্ছেÑএমন অভিযোগ জানিয়ে দেশটির অ্যান্টি ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি) অধিদফতর গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ও নেপালের পাটজাত পণ্যে প্রতিরক্ষামূলক শুল্কারোপের সুপারিশ করে। এর ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ভারতের রাজস্ব বিভাগ অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কারোপের গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান ভারতে পাটসুতা, চট ও বস্তা রফতানি করতে চাইলে প্রতি মেট্রিক টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার শুল্ক দিতে হবে। ভারতের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পাটপণ্যের রফতানি কমে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

খুলনার এমএম জুট ফাইবারস, মুন ইন্টারন্যাশনাল জুট মিলস, প্রবাল শিপিং লাইন্সসহ অন্তত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান আগে খোলা ঋণপত্র অনুযায়ী মাল পাঠিয়েও শুল্কের কথা জানার পর তাদের ৬৮টি ট্রাক বেনাপোলে আটকে রেখেছে।

মুন ইন্টারন্যাশনাল জুট মিলসের প্রতিনিধি জাহান আলী বলেন, এ হারে শুল্ক দিয়ে আগের দরে মাল পাঠালে ৬০ টন পাটসুতায় তাদের লোকসান হবে ২০ লাখ টাকা।

প্রবাল শিপিং লাইসেন্সের প্রতিনিধি মহসিন আলী বলেন, বাংলাদেশের অনেক পাটকল ভারতে রফতানির ওপর নির্ভর করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। উচ্চ হারে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কারোপের ফলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বেনাপোল বন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক মশিয়ার রহমান বলেন, বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রফতানি আয় আসে পাট থেকে। আর এ পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার ভারত। সে বাজারে পাঁচ বছরের জন্য এই শুল্কারোপ করা হলো।

প্রতিবছর ভারতে প্রায় দুই লাখ টন পাটসুতা, বস্তা ও চট রফতানি করে আসছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে পাটসুতার পরিমাণ দেড় লাখ টনের বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতদিন তারা ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে প্রতিটন পাটসুতা রফতানি করে আসছিলেন। এর সঙ্গে নতুন হারে শুল্ক যোগ হলে যে দাম দাঁড়াবে, তাতে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতায় টেকা সম্ভব হবে না।