প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাটশিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

নাসিমূল আহসান: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা হচ্ছে। কথা হচ্ছে সমুদ্রদূষণ নিয়ে। গবেষকরা বলছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রের মাছের চেয়ে প্লাস্টিক বর্জ্যের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আমরা দুনিয়াজুড়ে প্লাস্টিকের যে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছি, সেটাই আমাদের এক ভয়ংকর খাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্ববাসী এখন টেকসই উন্নয়ন ও ভোগের কথা বলছে। অথচ এখনও আমরা প্রতিদিন আমাদের শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছি প্লাস্টিকের খেলনা, ব্যাগসহ কত কী পণ্য। দিনযাপনের নানা অনুষঙ্গে প্লাস্টিক সর্বময় হয়ে উঠছে। আর আমরা এ জায়গায় দাঁড়িয়ে পাট ও পাটপণ্যের সম্ভাবনা খুঁজতে চাই।

আমাদের পাটপণ্য পৃথিবীর অসংখ্য দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শ্রমে-ঘামে পাটশিল্প নতুন পথের দিশা খুঁজে পাচ্ছে। এখন আর কেবল কাঁচাপাট রফতানি করে নয়, পাট দিয়ে তৈরি অসংখ্য বহুমুখী পণ্য আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ঝুলি ভারী করছে। সরকার বিভিন্ন পণ্যে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে পাট চাষে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর সর্বোচ্চ আট লাখ ১৭ হাজার ৩৮৩ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পাটের ফলনে স্মরণকালের রেকর্ড বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের কৃষিবিদরা। কিছু ব্যতিক্রম, অব্যবস্থাপনা থাকলেও দেশের বেশিরভাগ জায়গায় কৃষক পাটের ভালো দামও পাচ্ছেন।

আমাদের পাটশিল্প সময়ে সময়ে কত উত্থান-পতন দেখেছে! আদমজীসহ অনেক পাটকলকে খুন করা হয়েছে। শ্রমিকরা বেকার হয়ে কেউ চায়ের দোকানে কাজ নিয়েছেন, কেউ বহুতল ভবনের দারোয়ান হয়েছেন। কিন্তু আমাদের কৃষকরা যুগের পর যুগ পাটের সঙ্গে রয়ে গেছেন। এক বছর হয়তো পাটের দাম কম পেয়েছেন, কিন্তু পরের বছর ঠিকই নানা সংশয় আর দ্বিধা মাথায় নিয়ে আবার পাট চাষে মজেছেন। পাটের জন্য কৃষকের এ দরদ, ভালোবাসা পাটশিল্পের সম্ভাবনাকে প্রতিনিয়ত বাঁঁচিয়ে রাখছে, এগিয়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি পাট নিয়ে অনেক অনেক গল্প হাজির হচ্ছে আমাদের সামনে। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট চিনি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পাটপণ্য উৎপাদনের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সমাজের অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া নারীরা। সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ নামের এ প্রতিষ্ঠানে তৈরি চটের রকমারি ব্যাগ ও হাতে বানানো কার্ড রফতানি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। গ্রামীণ নারীদের এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবছরের রফতানি আয় দুই কোটি টাকা! ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে আবু নোমান নামের এ সাইকেলের মিস্ত্রি পাট দিয়ে সাইকেল তৈরি করেছেন। আবু নোমানের এই পাট দিয়ে বানানো সাইকেলের ফ্রেম আর দশটা স্টিলের ফ্রেমের মতোই মজবুত। এ তরুণ ভবিষ্যতে পাট দিয়ে সাইকেলের হ্যান্ডেলবার, সিট পোস্ট, রিম, ফর্ক বানানোর কথা ভাবছেন। তাহমিদুল ইসলাম নামের এক উদ্যোক্তা পাট দিয়ে বাহারি ডিজাইনের নান্দনিক জুতা তৈরি করছেন দীর্ঘদিন। তিনি পাট দিয়ে বিশ্বমানের জুতার ব্র্যান্ড তৈরি করতে চান। এক উদ্যোক্তা পাট দিয়ে ঢেউটিন থেকে চেয়ার, সব কিছু বানানোর কাজ করছেন। পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা পাটের পাতা থেকে চা উদ্ভাবনের কথা শুনিয়েছেন সম্প্রতি। পাটশাকের যে ভেষজ গুণ, তার সবটুকুই এই পাটের চায়ে পাবেন চাপ্রেমীরা। আর সে কারণেই এই চা খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে বলে বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের আশাবাদ। সম্প্রতি জার্মানিতে এ চা রফতানি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ গল্পগুলো আমাদের সামনের দিকে চোখ মেলে তাকাতে বলে। পাটকে নিয়ে নতুন করে ভাবার, কাজ করার কথা সামনে নিয়ে আসে।

অনেকেই পাটের সোনালি দিন হারিয়ে গেছে ফুরিয়ে গেছে বলে হাহাকার করে ওঠেন। পাটশিল্পের এ সম্ভাবনাময় যাত্রা তাদের নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিচ্ছেন। বার্তাটি সরকারের কাছেও পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন পাটকলগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিনটি পাটকলের আধুনিকায়নে (ঢাকার করিম জুট মিলস, চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস ও খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস) চীনের সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করেছে সরকার। আর তিনটি পাটকল আধুনিকায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। এত টাকা খরচ করে পাটকল আধুনিকায়নের যে স্বপ্ন, সেটা একদিকে যেমন আমাদের সক্ষমতা ও সাহসীকতার বার্তা জানান দেয়, তেমনি পাটের সুদিনের ইঙ্গিতও আমরা পাই। বর্তমানে আমরা প্রতি টন কাঁঁচা পাট রফতানি করে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার পাই। কিন্তু মিলগুলো আধুনিকায়ন করার পর সেখানে পাটের শাড়ি, সোফা, কভার ইত্যাদি পণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। যার মাধ্যমে প্রতি টন পাট থেকে ১০ হাজার ডলারের পণ্য উৎপাদন করা যাবে। এছাড়া আধুনিকায়নের ফলে তিনটি পাটকলে ৫৩ দশমিক ৩৫ একর জমিতে বছরে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

সোনালি আঁশ পাটের হারানো দিন ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চার বছর পর এবার নতুন পাটনীতি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ খসড়া নীতির পঞ্চম অধ্যায়ে ‘পাট উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক একটি দীর্ঘ পরিকল্পনার অবতারণা করা হয়েছে। এতে পাটশিল্পের উন্নয়নে নতুন প্রযুক্তি ও ডিজাইন উদ্ভাবনে গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনে জোর দেওয়া হয়েছে। পাটপণ্য উৎপাদন ও প্রযুক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য গবেষণার পাশাপাশি একটি পাটপণ্য ও পাটপ্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার সম্ভাবতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। একটি পরিপূর্ণ ডিজাইন ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে পাট খাতে নতুন নতুন ধারণার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া পাটপণ্য ও বহুমুখী পাটপণ্যের উৎপাদন ও উন্নয়নের গবেষণা কার্যক্রমে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করার পাশাপাশি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গোটা বাংলাদেশ এ পাটনীতির সফল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় বসে আছে। পাটনীতির বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের পাটশিল্প যে নতুন একটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, সেখান থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া আরও সহজ হবে।

সরকারের এসব উদ্যোগ, পাটশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। ঘরের দরকারি সব পণ্যের মধ্যে অন্তত একটি করে পণ্যও যদি আমরা পাটের ব্যবহার করতে পারি, দেশে পাটের একটা বড় বাজার তৈরি হবে। অনেক পাটপণ্য তৈরি ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কেবল রফতানির জন্যই পণ্য তৈরি করেন। পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি বাজারের পাশাপাশি দেশি বাজারে মনোযোগ দিতে হবে। দেশে কীভাবে পাটপণ্যকে জনপ্রিয় করা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে পাটপণ্যের প্রতি ভালোবাসা ও ক্রয় চাহিদা বাড়ানো যায়, সেই কাজটাও এগিয়ে নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব শৈশব তৈরির জন্য আমরা শিশুদের হাতে পাটের স্কুল ব্যাগ, পেনসিল বক্স তুলে দিতে পারি। এতে শৈশবে আমাদের শিশুরা যেমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পাটকে চিনবে, তেমনি ওদের মধ্যে পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় ইতিবাচক মানসিকতাও তৈরি হবে। শিশুদের পাঠ্য বইয়ে ‘পাট আমাদের সোনালি আঁঁশ’ সুলভ মুখস্থ কথাবার্তা না লিখে বইয়ের পাতায় বাহারি পাটপণ্যের ছবি দিয়ে আলাদা পরিচ্ছদের সংযোজন করতে পারি, যা আমাদের শিশুদের পাটের প্রতি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গিয়ে পাটপণ্যের প্রদর্শনী করতে পারি। তরুণদের ডেকে ডেকে বলতে পারি, চলো পাটকে ভালোবাসি। দেশি-বিদেশি কত প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কত সেমিনার, সভা, কর্মশালা করছে। আমরা এসব আয়োজনে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে পারি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ বাস করেন। তাদের প্রত্যেকেই একজন করে ‘জুট অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে উঠতে পারেন। আমাদের পাটপণ্যকে গ্লোবালি কানেক্ট করতে হলে প্রবাসী বাঙালিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে পারি। তারা যাতে বিদেশে পাটের রফতানি বাজারকে বিকশিত করতে পারে, সেজন্য তাদের তথ্যসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার জায়গা গড়ে তুলতে হবে।

পাটপণ্য তৈরিতে নতুন উদ্যোক্তাদের নানা ঝক্কি পোহাতে হয় নানা সময়। সময়মতো ফেব্রিকস পান না, ফেব্রিকস পেলেও সেগুলো মানসম্পন্ন হয় না, দামেও পাশের দেশ ভারতের চেয়ে বেশি। তাই বিশ্ববাজারে মান ও দাম নিয়ে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করতে হয় উদ্যোক্তাদের। এ সমস্যাগুলো থেকে তাদের রেহাই দিতে হবে। যাতে একজন উদ্যোক্তাকে কাঁচামালপ্রাপ্তি ও ক্রয়ে কোনো ধরনের সমস্যায় ভুগতে না হয়, সে বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে রাষ্ট্রকে। আর এজন্য যা যা করতে হয়, তাই করা কর্তব্য। নতুন উদ্যোক্তাদের বিকাশে মনোযোগী হতে হবে। যত্ন না করে রত্নের আশা করা বোকামি। পাটশিল্পের প্রতি যত্ন, দরদ ও মনোযোগ বাড়াতে হবে। পাটচাষি ও পাটপণ্য উদ্যোক্তাদের অল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে পারলে পাটশিল্প তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে কেবল পাটপণ্য রফতানি করে আমাদের আয় হয়েছে দুই হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। কেবল পাটপণ্যই নয়, পাটকাঠির ছাই হয়ে উঠছে অন্যতম রফতানিযোগ্য পণ্য। পাটকাঠি পুড়িয়ে যে অ্যাক্টিভেটেড কার্বন তৈরি হয়, সেগুলো ওষুধশিল্প, পানি ও বাতাস বিশুদ্ধকরণ শিল্প, আতশবাজির কারখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহূত হচ্ছে বিশ্বময়। এমনকি এ পাটকাঠির ছাই জমির উর্বরতা বিশুদ্ধকরণেও কার্যকরী উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এ পাটকাঠির ছাই আমরা বর্তমানে কেবল চীনে রফতানি করছি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে, একটু একটু করে পাটকাঠি দিয়ে যে রফতানিযোগ্য পণ্য তৈরি করে চলেছেন আমাদের উদ্যোক্তারা, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সেটার বাজার তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশকে বদলে যেতে বেশি সময় লাগবে না। দেশে প্রতিবছর আমরা যে পাটকাঠি উৎপাদন করি, তার অর্ধেকও যদি পুড়িয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারি, তা ফি বছর বাংলাদেশকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেবে।

এসব গেলো অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা। আমাদের পাটচাষিরা জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই কঠিন সময়ে পরিবেশ-প্রকৃতির জন্য যেন অবতার হয়ে উঠেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন কৃষক এক হেক্টর জমিতে পাট চাষ করলে তা মোট ১০০ দিনে ১৫ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রকৃতি থেকে শোষণ করে, আর ১১ টন অক্সিজেন প্রকৃতিকে দেয়। চলতি বছর যত হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে তা প্রকৃতিকে কী পরিমাণ অক্সিজেন দিয়েছে আর প্রকৃতি থেকে কী পরিমাণ কার্বন বিষ শোষণ করেছে, সে হিসাব কষতে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসতে হবে।

কৃষকের এই প্রাত্যহিক দান, উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনকার লড়াই বাংলাদেশ পাটশিল্পকে নতুন একটা মোড়ে এসে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্বের যেসব বড় বড় সংস্থা টেকসই ভোগের কথা বলছে, তাদের হাতে পাটপণ্য তুলে দিতে হবে। দুনিয়ার বড় বড় প্রতিষ্ঠান যাতে পাটের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে, সে জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আর এ কাজটা করার দায়িত্ব সবার। উদ্যোক্তাদের নিজেদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কীভাবে পাটপণ্যের ব্র্যান্ডিং আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রশাসনে কিছু দক্ষ মানুষ চাই, যারা দুনিয়া ঘুরে ঘুরে পাটপণ্যের মার্কেটিং করবে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাটপণ্যবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গোটা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে বহুমুখী পাটপণ্যকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলতে পারলে বাংলাদেশকে কেউ আর রুখতে পারবে না। পাট আমাদের শক্তি আর সম্ভাবনার জায়গা, এ সহজ কথাটি অনুধাবন করার সময় এখনই।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, ফাইট ফর জুট।

ই-মেইল : [email protected]