সারা বাংলা

পানির অভাবে ফেটে চৌচির আমন ক্ষেত

জেআই সমাপ্ত, লালমনিরহাট: বন্যার পরেও প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় লালমনিরহাটে আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। রোদে পুড়ে রোপা আমন ধানের চারাগুলো দিন দিন বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। এমন অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক।
চলতি বছর ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে চড়া দামে আমনের বীজ সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করেন লালমনিরহাটের কৃষক। কিন্তু বন্যার পানি তো নেমে গেছেই, সেই সঙ্গে আমন চারা বেড়ে ওঠার মতো পানিও নেই জমিতে। ফলে ফেটে গেছে আমন ক্ষেত। সামর্থ্যবান কৃষক ইঞ্জিলচালিত শ্যালোমেশিন ও বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন। তবে কিছু কিছু জমিতে পানি দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমন ক্ষেত। এতে বেড়ে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন খরচ। একে তো ধানের দাম কম, তারপরে আবার বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে আমনচাষিদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাটে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি। যার মধ্যে এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৮৫ হাজার ২৭০ হেক্টর। কিন্তু বৃষ্টির পানিনির্ভর আমন ক্ষেতে পানি নেই। এদিকে রোদের তীব্রতায় আমন ক্ষেতসহ মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ফলে আমনের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে নানা রোগবালাই। আর এ রোগবালাই থেকে ক্ষেত সুরক্ষিত রাখতে প্রতিনিয়ত করতে হচ্ছে স্প্রে। ফলে গুনতে হচ্ছে বাড়তি খরচ।
আমনচাষিরা জানান, পানির অভাবে রোদের তীব্রতায় আমন ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেলেও কোনো ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন না কৃষি বিভাগের লোকজন। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির পাশাপাশি নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, পানির অভাবে আমন চাষাবাদে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে পানি দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের আমন ক্ষেতে সেচ ও স্প্রে করতে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিধু ভূষণ রায় জানান, কৃষকরা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমন চাষাবাদ করেন। কিন্তু এবার প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ক্ষেতগুলো রোদের তীব্রতায় ফেটে গেছে। ফলে এবার আমন চাষাবাদে কৃষকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে।

সর্বশেষ..