মত-বিশ্লেষণ

পানির দাম বৃদ্ধি ও সেবার মান নিয়ে গণশুনানি জরুরি

চট্টগ্রাম ওয়াসা

এসএম নাজের হোসাইন: ওয়াসার পানিতে ময়লা পাওয়ার পর রাজধানীর জুরাইন এলাকার সমাজকর্মী মিজানুর রহমান ওয়াসার এমডিকে ওয়াসার ‘সুপেয় পানি’ দিয়ে শরবত খাওয়াতে চেয়েছিলেন। এ খবরে পুরো দেশ উত্তাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম ওয়াসায় তুঘলকি কাণ্ড ঘটলেও খবরটি চট্টগ্রামের বাইরে যায়নি। চট্টগ্রাম ওয়াসা একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তা সত্ত্বেও সেবার মান না বাড়িয়ে, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস না কমিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃক এক লাফে ৬২ শতাংশ পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সভ্যতার এ যুগে একতরফাভাবে কোনো ধরনের নাগরিক মতামত কিংবা গণশুনানি ছাড়াই হঠাৎ কেন পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হলো, তাও আবার এক লাফে প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তার ব্যাখ্যা দেওয়ারও প্রয়োজনবোধ করেনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ওয়াসাকে সত্যিকারের জনবান্ধব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নাগরিক দাবি প্রতিনিয়তই জোরদার হচ্ছে এবং ‘গড় বিল পদ্ধতি’র নামে ৩৮ শতাংশ গ্রাহকের কাছ থেকে পাঁচগুণ বেশি বিল আদায় করার বিষয়টি উঠে এসেছে সংস্থাটির অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে। ওয়াসার বোর্ড সদস্য জাফর সাদেককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই দাম বৃদ্ধি, একই সঙ্গে মানসম্মত ও পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া, গড় বিল প্রদান, পানি চুরি, অপচয়, অবৈধ সংযোগ, লিকেজ এবং ভাউচার বাণিজ্য ও সিস্টেম লসের নামে লুটপাটের নানা অভিযোগ রয়েছে। সেসব সমাধানে মনোযোগ না দিয়ে, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যুক্তিহীনভাবে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব কেন করা হলো, তা একেবারেই বোধগম্য নয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসা আইন, ১৯৯৬-এর ২২ ধারা অনুযায়ী প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়াতে পারে ওয়াসা বোর্ড। এর বেশি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। সে অনুযায়ী প্রতিবছরই পাঁচ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ায় ওয়াসা। কিন্তু ২০১৭ সালে এই নিয়ম ভাঙে চট্টগ্রাম ওয়াসা। ২০১৭ সালে ১৬ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানো হয়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে পানির দাম পাঁচ শতাংশ বাড়িয়েছিল ওয়াসা। বছরে দু’বার পানির দাম বাড়ানোর কোনো নিয়ম না থাকলেও ছয় মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ওয়াসা, তাও আবার গড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ। মজার কাহিনি হলো ওয়াসা বোর্ডও তাতে বিনা বাক্যে অনুমোদন দিয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড সভা আবাসিক সংযোগে প্রতি ইউনিট পানির দাম ৯ টাকা ৯২ পয়সার স্থলে ১৬ টাকা এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সার স্থলে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে তা কার্যকর করা হবে। এ বছর ২৮ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
পানির দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে ওয়াসার চেয়ারম্যান বলেছেন, আগে ভূগর্ভস্থ পানি বেশি উত্তোলন করত ওয়াসা। এখন ভূ-উপরিস্থ পানির দিকে ঝুঁকছে। ভূ-উপরিস্থ পানি আলাদাভাবে শোধন করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। তাই পানির প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম পানির দাম বাড়ানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। এজন্য উৎপাদন ব্যয় অনুযায়ী দাম রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচের যে হিসাব ওয়াসা করছে তার কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই। কারণ রাঙ্গুনিয়ায় শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার ও পাম্প হাউজে কোনো ডিজিটাল মিটার নেই। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে, তার সত্যতা যাচাই করার জন্য ওয়াসার ডেটাবেজ নেই। তাই পানির উৎপাদন খরচটি তথ্যনির্ভর নয়। তবে লিকেজ, অপচয়, মিটার রিডারদের কারসাজি, সিস্টেম লস ও লিকেজের কারণে ওয়াসা যে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেদিকে নজর দিলে অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে বলে মনে করে না ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংস্থাটির মতে, যেসব কারণে ওয়াসা লোকসান দিচ্ছে, সেসব কারণ অপনোদনে মনোযোগ না দিয়ে ওয়াসা দাম বাড়িয়ে গ্রাহকের ঘাড়ে বোঝা তুলে দিচ্ছে।
সবাই স্বীকার করছেন লোকসানের কারণগুলো চিহ্নিত করে কঠোর হয়ে সমাধান উদ্যোগ নিলে পানির দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে একই বছর দ্বিতীয়বারের মতো এক লাফে প্রায় ৬২ শতাংশ দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রাহকের স্বার্থবিরোধী। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এটি আশা করা যায় না এবং তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার আগে মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া। একই সঙ্গে গত ২৫ মে ওয়াসার ৫১তম বোর্ড সভায় সংস্থাটির অর্থ বিভাগ ২৭ হাজার গ্রাহক পাঁচগুণ বেশি বিল দেওয়া-সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন পেশ করেছে, সে বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হলো, বেশি বিল নেওয়া এখনও অব্যাহত আছে কি না, আদায়কৃত বেশি বিল ফেরত দেওয়া হবে কি নাÑসে বিষয়েও ওয়াসার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে যেকোনো ধরনের লুকোচুরি সেবা সংস্থাটিকে বিতর্কিত করে তুলবে। গড় বিল আদায়ের তদন্তে ওয়াসার বোর্ড সদস্য জাফর সাদেককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল পরিমাণ বিল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিতে পারেনি। আর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিলের আগেই পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তদন্ত কমিটির পুরো কাজটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার পাঁয়তারা হতে পারে অনেকেই মনে করছেন। জানা গেছে, ‘সিস্টেম লস’ কমানো ও ‘রাজস্ব আয়’ বাড়ানোর জন্যই মূলত ‘গড় বিল পদ্ধতি’র নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে এভাবে বাড়তি বিল আদায় করে যাচ্ছে সেবা সংস্থাটি। আইন ও নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিষয়টি অবৈধ হলেও কেন এমনটি করা হলো তা জানা, একইসঙ্গে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার নিশ্চয়ই সাধারণ নাগরিকের আছে। সরকারি সেবা সংস্থা হিসাবে বিল পরিশোধ করেও পানি না পাওয়া, ভাউচার বাণিজ্য, পাইপ ফেটে পানির অপচয়, মিটার না দেখে ভুয়া বিল করা, অকারণে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তা খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়েরও সুনিষ্পত্তি দরকার।
আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৬২ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ওয়াসা। এক লাফে এত বেশি দাম বাড়ানোর এখতিয়ার চট্টগ্রাম ওয়াসার না থাকলেও তা করতে দুঃসাহস দেখাচ্ছে। অন্যদিকে গণশুনানি ছাড়া এভাবে বড় ধরনের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়াও অগ্রহণযোগ্য। সিস্টেম লস, পানি চুরি ও অনিয়ম বন্ধ করা গেলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম ওয়াসার অযৌক্তিক আবদার অনুমোদন করলে তা জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেবে। উচ্চহারে প্রতিবছর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড়ই দুঃসংবাদ। এর পরিণামে জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, যাতায়াত খরচ ও বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্পে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে বাসাভাড়া, যাতায়াত খরচ, ভোগ্যপণ্য, শিক্ষাব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সবকিছুতেই বাড়তি খরচের খড়্গ নেমে আসবে। এ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হবে সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে, যাদের কোনো আয় বাড়বে না, অথচ ব্যয়ের বাজেট প্রতিনিয়তই বেড়ে যাচ্ছে। সংগত কারণে দেশ ও সাধারণ জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় পানির দামের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর যৌক্তিক সিদ্ধান্ত দেখতে চাই।
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্ত জনগণসহ সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিকের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্তমান পানির মূল্য বৃদ্ধি তার গতিসঞ্চার করবে। আবার গণশুনানি ও গ্রাহকদের মতামত এবং সুপারিশ ছাড়া কোনোভাবে আমলে নিয়ে বারংবার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রদান করে হচ্ছে। অন্যদিকে মুষ্টিমেয় অসৎ ব্যবসায়ী ও মজুতদাররা নানা টালবাহনায় এবং অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে, জনগণকে জিম্মি করে সারা দেশে গণপরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি, সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, সাময়িক সংকট তৈরি করে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি করলেও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলেন, এতে সরকারের কিছুই করণীয় নেই। সরকার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ না করে সাধারণ জনগণের ওপর বাড়তি মূল্যের চাপটি তুলে দিয়ে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজ, আদা, চিনি, সয়াবিন, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে বাড়তি মূল্যে বিক্রি করে আগুন ছড়ালেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোনো বাজার তদারকি বা বিকল্প বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ না নিয়ে দিবাস্বপ্নে বিভোর রয়েছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ না করে সাধারণ জনগণের ওপর আবারও পানির দাম বাড়ানোর বাড়তি বোঝা তুলে দিলে সামগ্রিকভাবে সমাজে অস্থিরতা বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার মতো একটি সরকারি অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কোনোভাবেই জনমতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জনগণের করের টাকায় তাদের বেতন-ভাতা ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে ‘ঋণ ও ভর্তুকি’ নির্ভরশীল উন্নয়নে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং প্রকল্প বাজেট সংশোধন করে বিপুল অর্থ লুটপাট করে আবার সেই অর্থের দায় চাপিয়ে পানির দাম বাড়ানোর খোঁড়া যুক্তি প্রদর্শন কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে পানির অপচয় রোধ, সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, লিকেজ, পানির চুরি বন্ধ, সিস্টেম লস বন্ধ ও বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করে সেবা সার্ভিসের অব্যবস্থাপনা রোধ করতে হবে। ওয়াসার গ্রাহকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, গ্রাহকসেবার মান ও অনিয়ম রোধে ত্রিপক্ষীয় গণশুনানির আয়োজন করা, গ্রাহক হয়রানি রোধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকারের জন্য ডিজিটাল হেল্প লাইন চালু ও হেল্প ডেস্কের আধুনিকায়ন এবং সেবার মান উন্নয়নে নীতিমালা প্রণয়ন করে ভোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলেই এ দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ভাইস প্রেসিডেন্ট
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

সর্বশেষ..