মত-বিশ্লেষণ

পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর করতে হবে

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে। কভিড-১৯ মহামারির ফলে এরই মধ্যে ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছিল এই ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়টি ঘরবাড়ি, স্কুল ও চিকিৎসা কেন্দ্র ধ্বংস করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ফসল ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড়ের পরে এখনও লাখ লাখ শিশুর জরুরি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়ে গেছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাড়িঘর হারিয়েছে। পরবর্তী মাসগুলোয় তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা। একদিকে কভিডের হুমকি এবং অন্যদিকে অনেক কমিউনিটিতে ঘরবাড়ি, ল্যাট্রিন ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার শিশুর স্বাস্থ্য এখন ডায়রিয়া ও আমাশয়ের মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এসব অঞ্চলের অনেক জায়গায় ইউনিসেফ উঁচু ল্যাট্রিন তৈরি করেছে। এ কারণে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পরও এই ল্যাট্রিনগুলোর অধিকাংশ এখনও টিকে আছে এবং তাদের পরিবার ও শিশুরা প্রতিদিন ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহার করছে।

বরিশালের কাঁচা নদীর তীরে ছোট একটি বাড়িতে স্বামী ও পাঁচ সন্তানের সঙ্গে ৪৫ বছর বয়সি মরিয়ম বেগম বাস করেন। তার গ্রামে মাত্র আটটি পরিবারের বাস, কারণ বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে ঘরবাড়িগুলো সহজেই প্লাবিত হয়। ইউনিসেফ-সমর্থিত ওয়াশ প্রকল্পের আওতায় এনজিও ফোরাম পরিচালিত হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরুর আগ পর্যন্ত মরিয়ম ও তার প্রতিবেশীদের হাত ধোয়া এবং স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিনের গুরুত্ব সম্পর্কে তেমন কোনো জ্ঞান ছিল না। উঁচু কাঠামোর শৌচাগার নির্মাণের গুরুত্ব সম্পর্কে মরিয়ম জানতে পেরেছিলেন, কারণ যে নিন্মাঞ্চলে মরিয়ম বাস করেন, ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিপাতের সময় তা প্রায়ই বন্যাকবলিত হয়। এতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।

মরিয়ম বলেন, আমার সন্তানরা সবসময়ই অসুস্থ থাকত। তারা প্রায়ই ডায়রিয়া বা আমাশয়ে ভুগত। আমাদের নতুন ল্যাট্রিনের কারণে এখন আর তারা এত অসুস্থ হয় না।

কমিউনিটিতে পরিচালিত এসব সেশনের মাধ্যমে মরিয়ম উঁচু কাঠামোয় নির্মিত ল্যাট্রিনের গুরুত্ব সম্পর্কে শিখেছে, কারণ যে নি¤œাঞ্চলে মরিয়ম বাস করেন, ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টিপাতের সময় প্রায়ই তা বন্যাকবলিত হয়। এতে স্যানিটেশন ব্যবস্থা বিঘিœত হয়।

বাংলাদেশের যে অঞ্চলে মরিয়মের বাস, এমন অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল এদেশে রয়েছে, যেখানে দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসরত মানুষ নিরাপদ পানির উৎস ও উন্নত ল্যাট্রিনের সুবিধা এবং ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময় কীভাবে এগুলো রক্ষা করা যায়, সে সম্পর্কে সচেতন নয়।

ইউনিসেফের তথ্য অবলম্বনে

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..