বিশ্ব বাণিজ্য

পাম অয়েল রপ্তানিতে পাকিস্তানে নজর মালয়েশিয়ার

ভারতের বিধিনিষেধ আরোপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ার পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানিতে সম্প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভোজ্যতেলের বাজারে তাই রপ্তানি অনেক কমে যাচ্ছে কুয়ালালামপুরের। তাই বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বাজারের দিকে নজর দিচ্ছে দেশটি। খবর: রয়টার্স।

মালয়েশিয়ার শিল্পমন্ত্রী তেরেসা কক গত রোববার পাকিস্তানে সফর করেছেন। এদিন তিনি পাকিস্তানের শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র, উৎপাদন ও বিনিয়োগ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, পাকিস্তান সবচেয়ে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য পাম অয়েল ও পাম অয়েলজাত পণ্যের ক্রেতা। পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় জায়িয়েছে, ২০১৮ সালে মালয়েশিয়া থেকে এক দশমিক ১৬ মিলিয়ন টন পাম অয়েল আমদানি করেছে। এর আর্থিক মূল্য ৭৩০ মিলিয়ন ডলার। এ বাজার আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায় মন্ত্রীর সফরে তা আলোচনা করা হয়েছে।

গত বুধবার পরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি নীতিমালায় সংশোধনী এনেছে ভারত। সংশোধনীতে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। এতে কার্যত মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞাই আরোপিত হলো বলে জানিয়েছে ওই অ্যাসোসিয়েশন সূত্র।  

সম্প্রতি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (জম্মু-কাশ্মীর) ইস্যুতে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এ কারণে দেশটির পাম অয়েল বয়কট করেছে ভারত। তবে এ প্রসঙ্গে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, ভারতের এ বাণিজ্যযুদ্ধের পরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের সংবিধান থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর রাজ্যের মুসলমানদের ওপর নয়াদিল্লির পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন মাহাথির মোহাম্মাদ। গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে আগ্রাসন চালিয়েছে ভারত। এ কারণেই মূলত মালয়েশিয়ার পাম অয়েল বয়কট করেছে নয়াদিল্লি।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমান চুক্তির সমাপ্তিও পর পাম অয়েল রপ্তানির পতন শুরু হয়েছে। পরিশোধিত পাম অয়েল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ভারতই লাভবান হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..