প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পারিবারিক আধিপত্য ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বিঘ্নিত হবে

সম্প্রতি ব্যাংকের পরিচালকসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনের কারণে ব্যাংক শেয়ার কেনার চাপ বেড়ে যায়। একই পরিবারের চারজন সদস্য হতে পারবে এমন সুযোগ আসায় অনেকে পারিবারিক সদস্যপদ বাড়ানোর লক্ষ্যে শেয়ার কেনেন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটানো সহজ হবে, এটাই মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু একটি পরিবারের অধিক সদস্য কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বিঘ্নিত হতে পারে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়। আহমেদ রশীদ লালীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ এমরান হাসান এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ফখরুল আলম পাটওয়ারী, এফসিএ।

মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, সম্প্রতি ব্যাংকের একটি পলিসি পরিবর্তিত হয়েছে। আগে ব্যাংকে একই পরিবারের দুজন ডিরেক্টর থাকতে পারতেন, এখন সেখানে চারজন থাকতে পারবেন এবং ছয় বছরের জায়গায় ৯ বছর থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যপদ অনেক বেশি অকর্ষণীয়, কারণ এখন একটি পরিবার চাইলে অনেক বেশি প্রভাব খাটাতে পারবে। যেহেতু পরিচালক পদ পাওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে, তাই সবাই চাইবেন ব্যাংকে নিজ পরিবারের সদস্য বাড়াতে। ফলে অনেক সদস্যের পরিবারের অন্যরাও শেয়ার সংগ্রহ করে পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, যে কারণে অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারের বড় উত্থান আমরা লক্ষ করেছি সম্প্রতি। এর আগে অনেক ব্যাংকের দর ফেস ভ্যালুর নিচে ছিল। কিন্তু দেখা গেছে, সব ব্যাংকের ২০-৩০ শতাংশের মতো শেয়ারদর বেড়েছে। কাজেই পরিচালকসংক্রান্ত আইন পরিবর্তনই দর বৃদ্ধির মূল কারণ হতে পারে। তবে একটি পরিবারের এত বেশি আধিপত্য ব্যাংকের সুশাসনে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ভবিষ্যতে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতকে আমি অতিমূল্যায়িত বা অবমূল্যায়িত বলব না। তবে যে ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে প্রভিশন করেনি সেগুলো হয়তো কম পিইতে ট্রেড হচ্ছে। কিন্তু যে আর্নিংয়ের ওপর ভিত্তি করে আমরা পিই হিসাব করছি, সেটাই আসলে প্রকৃত আর্নিং নয়, যদি সঠিকভাবে প্রভিশনিং করা হয়। ফলে ওইসব ব্যাংকের শেয়ারদর বাড়াকে আমি টেকসই বলে মনে করি না, কারণ ফান্ডামেন্টাল কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আর যে ব্যাংকগুলোর পরিচালক এবং মৌলভিত্তিসংক্রান্ত কারণে শেয়ারদর বেড়েছে, সেটাকে  যৌক্তিক মনে করি। এছাড়া এখনও অনেক ব্যাংকের দর বাড়ার ভালো সুযোগ আছে।

ফখরুল আলম পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আয়তন তাতে এতগুলো ব্যাংকের দরকার আছে কি না তা নিয়ে নেতিবাচক ও ইতিবাচক অনেককিছুই বলা যাবে। তারপরও যেহেতু ব্যাংকগুলো চলে এসেছে, আমরা আশা করেছিলাম ব্যাংকগুলোতে সুশাসন থাকবে। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনীতির সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার মার্কেটও ভালো করবে। কিন্তু ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে অনেকের মিটিংয়ে বহিরাগতদের আগমন, পরিচালকদের তথ্য গোপন করে লোন দেওয়া ও স্বাক্ষর নকল করা প্রভৃতি আরও কিছু জালিয়াতির বিষয় উঠে এসেছে। নতুন এই ব্যাংকগুলো এখনই যদি এমন হয়ে যায় তাহলে কতদিন তারা টিকে থাকবে মার্কেটে। সেটিই আসলে প্রশ্ন। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে খুব দ্রæতই বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে চলে এসেছে। এটি যদি দু-তিন বছর পরে পাওয়া যেত তাহলে আরও খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। কাজেই এটি একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করি।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম