পাঠকের চিঠি

পারিবারিক সহিংসতায় জড়িতদের আইনের

পাঠকের চিঠি

আওতায় আনতে হবে: পরিবার হচ্ছে সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান, যা আমাদের প্রকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে বিবেচিত। আমরা এখান থেকেই জীবনের সবকিছু শিখতে পারি। সমাজে চলতে-ফিরতে সবকিছু প্রাথমিকভাবে পরিবার থেকে শিখি। পরিবারের সব সদস্যের অধিকার সমান চাই, সে ছোট হোক কিংবা বড়। পরিবারের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হয়, কারণ পরিবার ছাড়া সমাজব্যবস্থা অর্থহীন। দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, যে সমাজে বাস করে না, সে হয়তো পশু নয়তো দেবতা। এই পরিবার যেমন সুখের, তেমনি দুঃখেরও। কারণ এই পরিবারকে ঘিরে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে। সহিংসতা অর্থ হিংসাযুক্ত আচরণ বা অমানবিক আচরণ। পরিবারের এক সদস্য কর্তৃক অপর সদস্য সহিংসতা বা অমানবিক আচরণের শিকার হন। বিশেষ করে করোনাকালে আমাদের দেশে পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ সহিংসতার শিকার নারী ও শিশু।

বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’-এর তথ্যমতে, আমাদের দেশে পারিবারিক সহিংসতা বেশি দেখা যায়। আর সেটা করোনাকালে বেশি উপলব্ধি করা যায়। এই পারিবারিক সহিংসতা ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এর মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে নারী। দেশের ২৭টি জেলায় ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চার হাজার ২৪৯ নারী ও ৪৫৬ শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এরপর আর কোনো সমীক্ষা হয়নি এখন পর্যন্ত। শিশুদের মধ্যে ৯২ শতাংশ বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত। শিশুরা ছোট বলে কারও কাছে প্রকাশ করতে পারে না। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অমানবিক আচরণ করা হয়। আর নারীরা বেশিরভাগই স্বামীর হাতে নির্যাতিত হয়। তাদের কোথাও যাওয়ার ঠাঁই নেই বলে যেতে পারে না। সব সহ্য করে থাকে। করোনাকালে নারী নির্যাতনের বেশকিছু মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতিকালে অনেক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে গৃহবধূকে তার স্বামী নির্মমভাবে হত্যা করে। এমন অসংখ্য নির্মম ঘটনা ঘটছে আমাদের দেশে। ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০’ প্রণীত হয়েছে নারী ও শিশুকে রক্ষার জন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই আইনটি আমাদের দেশে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বাংলাদেশে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার অন্যতম মূল কারণ পুলিশ ও আদালতের কাছে অভিযোগ না করা। এক জরিপে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ নারী কোনো না কোনো কারণে সহিংসতার শিকার। তাদের মধ্যে ৭২ শতাংশ নারী সহিংসতার বিষয়টি চেপে যায়। করোনাকালে অনেক পুরুষ চাকরিচ্যুত হয়ে মানসিকভাবে হতাশ এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল হয়ে পড়েছে। তাদের মেজাজ থাকে সবসময় খিটখিটে। আর এ সবকিছুর কারণে পরিবারের সদস্যদের ওপর অমানবিক আচরণ করে থাকে অনেক পুরুষ। আর সেটা শিশুদের তুলনায় নারীদের ওপর বেশি দেখা যায়। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতার কারণ হচ্ছে বিদ্যাহীনতা, সুশিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য, লোভ-লালসা, মাদকাসক্তি, রাষ্ট্রীয় আইনের দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগ, নৈতিকতার অভাব প্রভৃতি। পরিশেষে বলতে চাই, এরূপ ঘৃণিত কাজটি প্রতিরোধে দ্রুততার সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রয়োগ করা উচিত, তাহলে পরবর্তী সময় এরকম ঘৃণিত কাজটি করতে কেউ সাহস পাবে না। সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুকে আশ্রয় প্রদানের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। হীন মানসিকতা ত্যাগ করে পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা এবং তাদের প্রতি দায়িত্ববান হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

মু. সায়েম আহমাদ

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..