প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পাসপোর্ট-সময়-ভ্রমণ: রিফ ও পার্কের  ডোমিনিকা

পর্যাপ্ত সময় ও পাসপোর্ট থাকলে বিনা ভিসায় কিছু দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন। আজ এমন একটি দেশ ডোমিনিকার কথা জানাচ্ছেন মো. ইমরান হোসেন

বাংলাদেশ থেকে ভিসা ছাড়া বিশ্বের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করা যায়। একদিন বা দুদিন নয়, চাইলে সেখানে মাসখানেক কাটিয়ে আসতে পারবেন। জানতে পারবেন সেখানকার সংস্কৃতি, জীবন, জীবিকাসহ অনেক কিছু। এমনই একটি দেশ ডোমিনিকা। পর্যটক হিসেবে বেশকিছু দিনের জন্য দেশটিতে ঘুরে বেড়াতে চাইলে তবেই অন অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। এবার জেনে নেওয়া যাক দেশটির পরিচিতি।

ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থিত পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপরাষ্ট্র ডোমিনিকা। এর বেশিরভাগ এলাকা ঘন ক্রান্তীয় অরণ্যে আবৃত। রোজাউ দেশটির রাজধানী।

কৃষিকাজ বিশেষ করে কলাচাষই ডোমিনিকার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। অন্য ক্যারিবীয় রাষ্ট্রের তুলনায় এখানকার সমুদ্রসৈকত আকারে ছোট। বৃষ্টি, অরণ্য, উষ্ণ আবহাওয়া ও জলপ্রপাত পর্বতারোহী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আনন্দ দেয়। ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ সালের এক  রোববার দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। দিনটিকে লাতিন ভাষায়  দোমিনিকাস বলা হয়। এ নাম অনুসারে দোমিনিকা বা ডোমিনিকা রাখেন তিনি। এখানকার অধিকাংশ মানুষ ক্রেওল ভাষায় কথা বলে। ফ্রেঞ্চ থেকে উদ্ভূত হয়েছে ক্রেওল। ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর স্বাধীনতা লাভ করে।

মর্ন ট্রয়স পিটনস ন্যাশনাল পার্ক

ডোমিনিকার পর্বতশৃঙ্গের অভ্যন্তরে এর অবস্থান। প্রায় ১৭ হাজার একর জুড়ে বিস্তৃত পার্কটি। বয়েলিং লেক, ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত, ট্রাফালগার জলপ্রপাত, কুয়াশাচ্ছন্ন বোরি লেক, মিডিলহ্যাম জলপ্রপাত, টাইটউ গর্জ, এমারল্ড পুল প্রভৃতি পাবেন এখানে।

ক্যাবরিটস ন্যাশনাল পার্ক

রেইনফরেস্ট, বালুকাময় সমুদ্রসৈকত ও প্রবালপ্রাচীর রয়েছে পার্কজুড়ে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান। পার্কের মধ্যে আরও আছে ফোর্ট শেরিলের ধ্বংসাবশেষ।

রোজাউ

পশ্চিম ভারতীয় কুটির, আধুনিক রঙিন ভবন ও কোলাহলমুক্ত স্থান রোজাউ। জলপ্রপাত, সমুদ্র ও ডকের কাছাকাছি থাকায় এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথলিক ক্যাথিড্রাল, ডোমিনিকা বোটানিক গার্ডেনস, কম্প্যাক্ট ডোমিনিকা জাদুঘর প্রভৃতি রয়েছে এখানে।

প্যাপিলোট ট্রপিক্যাল গার্ডেন

উদ্ভিদবিদ ও আলোকচিত্রীদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় এলাকাটি। ১০ একর বাগান ও ইকো-লজ রয়েছে এখানে। পথের পাশে বাঁশগাছ, আদা ফুল, আদিবাসী গোলাপি, ব্রোমেলিয়াড গাছ পার্কটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পপিলোট ও ট্রাফালগার নামের দুটি জলপ্রপাত আছে এখানে।

শ্যাম্পেন রিফ

ব্যাটফিশ, বারকুডা, রে, স্কুইড, ট্রাম্পেট প্রভৃতি মাছ পাওয়া যায় এ রিফে। এখানে সাঁতার কাটতে আসেন অনেক পর্যটক।

ক্যারিব অঞ্চল

এ অঞ্চলে কালিনাগো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করেন। কাঠের বাড়ি আর কাঠের তৈরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরিতে এরা পারদর্শী। গাছ খোদাই করে টুপি, মাদুরসহ সব ধরনের তৈজসপত্র তৈরি করে তারা। পর্যটকদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।