কৃষি কৃষ্টি

পাহাড়ি এলাকায় ভালো জন্মে শাকআলু

শাকআলু এক ধরনের মূলজাতীয় আলু বা সবজি। একে শাকালু বা শঙ্খ আলুও বলা হয়। এ আলুর গড়ন ও রঙ দেখতে অনেকটা শঙ্খের মতো, তাই শঙ্খ আলু নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া শাকআলু ঠাণ্ডা অনুভূত হয় বলে পাহাড়িরা একে ঠাণ্ডা আলুও বলে থাকেন। একসময় এ আলু ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া হতো। শাকআলুর ওপরের অংশ সাদাটে বাদামি আর ভেতরটা সাদা শালগম আকৃতির। অত্যন্ত রসালো ও মিষ্টি হয়ে থাকে। এটি একদিকে যেমন ফল হিসেবে খাওয়া হয়, অন্যদিকে সবজি হিসেবেও রান্না করে খাওয়া যায়। সাধারণত পাহাড়িদের কাছে এটি দামি সবজি হিসেবে পরিচিত। এর চাষ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক

জমি চারা রোপণ

শাকআলু চাষে তেমন কোনো ঝামেলা নেই। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে শাকআলু চাষ করা যায়। একটু স্যাঁতসেতে বেলে ও বেলে-দোঁআশ মাটি এর জন্য উপযুক্ত। রোপণের জায়গা যদি সাগরতীর বা নদীতীর হয়, তাহলে আরও ভালো হয়। সমতলে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে বীজ বপন করতে হয় এবং পাহাড়ে মার্চ থেকে এপ্রিলে বপন করতে হয়। বীজ থেকে দ্রুত চারা বের হয় এবং কোনো কিছুকে অবলম্বন করে গাছ বাড়তে থাকে। এ সময় লম্বা খুঁটি কিংবা মাচা তৈরি করে দিতে হবে। সমতল থেকে পাহাড়ে ভালো জন্মের এটি।

সার ব্যবস্থাপনা

শাকআলু চাষে সাধারণত কোনো ধরনের সার দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। প্রকৃতি থেকেই শাকআলু তার বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে। এর চাষে জৈবসারও দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যদি দেওয়া হয়, তাহলে গাছের ফুল ও পাতা অনেক বৃদ্ধি পায় কিন্তু ফলন কমে যায়। তাছাড়া বেশি ফুল ও পাতা হলে তা ভেঙে দেওয়াই উত্তম।

পোকামাকড় রোগ দমন

শাকআলু গাছ ও পাতায় রোটেনন নামে বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। এ উপাদানের ফলে এ গাছ তেমন পোকামাকড় বা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয় না। সঠিক যতœ ও পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। নিয়মিত পানি ও আগাছা নিড়ানি দিতে হবে। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না। সব সময় পানির মধ্যে ডুবে থাকলে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ফলন

বীজ বপনের সাত থেকে আট মাস পর শাকআলু তোলার উপযুক্ত সময় হয়। কোনো রোগবালাই না থাকায় একরপ্রতি প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মেট্রিক টন শাকআলু পাওয়া যায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..