সম্পাদকীয়

পাহাড় ও সৈকত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

কক্সবাজারে বহু মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন ঘোষিত সৈকত এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়াই গড়ে উঠেছে স্থাপনা। কক্সবাজারের এই ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত জুড়ে অবৈধ দখল, নির্মাণ, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দূষণ, পৌর বর্জ্য ও ওয়ান টাইম ইউজ প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টজনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। তাছাড়া কক্সবাজার জেলা সদর, মহেশখালী, টেকনাফ, রামু, চকোরিয়া, উখিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় উন্নয়নবহির্ভূত ও সংরক্ষিত এলাকার পাহাড়, টিলা ও বনাঞ্চল দখল রক্ষা কার্যক্রমেও শিথিলতা লক্ষণীয়। এসব পরিস্থিতিতে বিশ্বের এই দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও তার পার্শ্ববর্তী পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত অঞ্চলটি হুমকির মধ্যে পড়ে যায়। এমনকি এলাকাটি দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় তার আর্থিক ও ঐতিহ্যিক গুরুত্বও এখানে বিবেচ্য। সারা বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, উষ্ণতাও বেড়ে চলেছে। এসব পরিপ্রেক্ষিত থেকে এলাকাটির পরিবেশগত কাঠামো সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দখলদারিত্ব ও মনুষ্যসৃষ্ট সংকটকে নির্মূল করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে তটরেখা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। পরিবেশগত বিবেচনায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে টেকনাফ সমুদ্রসৈকতের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য, নির্মল জলরাশি ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে এলাকাটিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। সেই সূত্রে এলাকাটিতে সব ধরনের স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ। তবুও অঞ্চলটির উন্নয়ন নিষিদ্ধ ও সংরক্ষিত এলাকায় দূষণকারী, বেআইনি ও অনুনোমোদিত স্থাপনা বা অবকাঠামো গড়ে উঠছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি এই পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাতেই লাবণী পয়েন্ট সার্কিট হাউসের ১০ তলা ভবন নির্মিত হতে যাচ্ছে। আর তার ছাড়পত্র দিয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

উপরন্তু ‘ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ফর কক্সবাজার টাউন অ্যান্ড সি আপ টু টেকনাফ’ মহাপরিকল্পনার আওতায় জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী এলাকা থেকে পৌরসভার ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও বাধাহীন নির্মাণকাজ চলছে বলে জানা যায়। এমনকি সৈকতে উচ্ছিষ্ট প্লাস্টিক ও পৌর বর্জ্য নিষ্কাশনেও পৌরসভার প্রশংসনীয় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পাহাড়, পাহাড়ি বন ও টিলায় কোনো পরিবর্তন, রূপান্তর ও ধ্বংসের তৎপরতা শিগগিরই বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি এখানকার চলমান ও প্রস্তাবিত সমগ্র পর্যটন এলাকায় ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার না করার উপায়ও খুঁজে বের করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চের আদেশটি যৌক্তিক বলে মনে হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..