সম্পাদকীয়

পাহাড় কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। প্রতিবেশ রক্ষায় তাই বিভিন্ন দেশ বন, পাহাড়সহ অন্যান্য প্রাকৃতিক নিদর্শন রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। পাহাড় রক্ষায় আমাদের আইনও রয়েছে। সে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনেকেই নির্বিচারে পাহাড় কাটছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও পাহাড় কাটছে বলে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এবার নামিদামি শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার বিষয়টি সামনে এসেছে। আইন লঙ্ঘন করে যারা পাহাড় কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজের গতকালকের প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলÑ‘চট্টগ্রামে পাহাড় কাটছে নামিদামি শিল্পগ্রুপ’। বিষয়টি দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। বিভিন্ন দেশে শিল্পপ্রাতষ্ঠান পরিবেশগত উপাদান সংরক্ষণ করে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিচ্ছে। সেখানে আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পাহাড় ধ্বংস করছে। ন্যূনতম দেশপ্রেম থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠান এমন কর্মকাণ্ড চালাতে পারে না বলে মনে করি।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৮৮টি পাহাড় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। এই সময়ে আংশিক কাটা হয়েছে ৯৫টি পাহাড়। এরপরের ১২ বছরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্টা দিয়ে বেড়েছে পাহাড় কাটা। এ তথ্য রীতিমতো ভয়ঙ্কর।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, পাহাড় কাটার জরিমানা অনেক কম। ফলে যারা পাহাড় কাটছেন, তাদের মধ্যে এ ধরনের ধারণা থাকা খুবই স্বাভাবিক যে, তাদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হলেও সরকারের ধার্য করা সেই স্বল্প জরিমানা পরিশোধ করে তারা পার পেয়ে যাবেন। কাজেই পাহাড় কাটার অপরাধের শাস্তি এমন হওয়া উচিত, যাতে কেউ শাস্তির ব্যাপকতার কারণে পাহাড় কাটা থেকে দূরে থাকেন।

সাধারণত নগরায়ণের জন্য নিচু ভূমিতে মাটি ভরাট, ইট তৈরি ও রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটির জোগান দিতে সহজলভ্য উৎস হিসেবে পাহাড়ের মাটি কাটা হয়। কিন্তু দেশে মাটির বিকল্প উৎসের অভাব নেই। বিভিন্ন নদী ড্রেজিংয়ের পর বিপুল পরিমাণ মাটি পাওয়া যায়। এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সে মাটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এমনকি পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে নদী শাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রেজিংয়ের মাটি রাখার জন্য বিপুল পরিমাণ জমি ক্রয় করতে হয়েছে। এ ক্রয় প্রক্রিয়ার জন্য পৃথক প্রকল্পও নিতে হয়েছে। কিন্তু এ মাটি যদি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে পাহাড়গুলো রক্ষা পাবে বলে মনে করি। আশা করি, সরকার পাহাড় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..