সারা বাংলা

পাহাড়ি সড়কের মাঝখানে গ্যাসলাইন, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অপরিকল্পিতভাবে বড় করা হয়েছে চা বাগানের একটি পাহাড়ি সড়ক। এতে সড়কের পাশ দিয়ে নেওয়া গ্যাস সঞ্চালন লাইন বর্তমানে সড়কের মধ্যে এসে পড়েছে। শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান ইউনিয়নের টিপরা ছড়ার প্রবেশমুখ থেকে নাহার চা বাগান যাওয়ার সড়কে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শিগগিরই পাইপলাইন না সরালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। চা বাগান কর্তৃপক্ষও গ্যাস পরিসঞ্চালন লাইনের এ অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। তবে জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম কর্তৃপক্ষ এতে ততটা ঝুঁকি দেখছে না। ফলে আগামী শীত মৌসুমে পাইপলাইন সরানোর কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, এখন বাগানে চায়ের ভরা মৌসুম চলছে। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এ লাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাস বন্ধ থাকলে চায়ের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়বে। তাই এখনই সংস্কারকাজ শুরু হচ্ছে না। আপাতত স্থানীয়ভাবে মাটি ফেলে এটিকে যতটা সম্ভব মাটির নিচে রাখা যায়, সে ব্যবস্থা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, এ সঞ্চালন লাইনটি নেওয়ার সময় রাস্তা ছোট ছিল, ফলে তখন পাইপলাইন ছিল রাস্তার পাশে, কিন্তু রাস্তাটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ প্রশস্ত করলে সঞ্চালন লাইনটি বর্তমানে বর্ধিত রাস্তার মধ্যে অবস্থান করছে। এ জন্যই তৈরি হয়েছে এ অবস্থা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিপরা ছড়া চা বাগানের প্রবেশ মুখ থেকে নাহার চা বাগানে যাওয়ার পাহাড়ি কাঁচা এ রাস্তাটির চার কিলোমিটার এলাকায় রাস্তার নিচ দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাস্তার বেশিরভাগ অংশে মাটি সরে গিয়ে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ বেরিয়ে পড়েছে। চালকরা এ সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এ রাস্তায় চলাচলকারী জিপ গাড়ির চালক আবদুল খালেক জানান, রাস্তাটি এমনিতেই আঁকাবাঁকা ও কর্দমাক্ত, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যেতে হয়। এমনিতেই তারা এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালান। এখন এ গ্যাস পাইপলাইন বিপজ্জনক সমস্যা হিসেবে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। গাড়ির কারণে যদি এ গ্যাস লাইন কোনো সমস্যা হয়, তখন গাড়িতে থাকা সবাই বিপদে পড়বে।
নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য জানান, তিনি নিজেও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন। এটি একটু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ই আছে। চা বাগানের পক্ষ থেকে কয়েকবার পাইপলাইনের ওপর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গেছে। এখন পাইপগুলো খুলে গভীর গর্ত করে টানতে হবে। কিন্তু এ কাজ করতে হলে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে। আবেদন করা হয়েছে, আগামী শীতে এটি সরানোর কাজ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন লিমিটেডের শ্রীমঙ্গল আঞ্চলিক শাখার উপ-ব্যবস্থাপক গৌতম দেব জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ব্যাপারে আবেদন পেয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কাজের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ডিসেম্বরের দিকে কাজ শুরু করা হবে। এখানে গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে না। তবে কাজটি দ্রুত করা হবে।

সর্বশেষ..