দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

পিকে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে বিদেশে পালিয়ে থাকা প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ গতকাল এসব মামলা করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদক সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বোর্ডের সদস্যরা অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ দিয়ে আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং করেছেন।

দুদক সচিব জানান, এসব মামলায় পিকে হালদার ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, ৯ বোর্ড সদস্য, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী, পিকে হালদারের আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে আনাম কেমিক্যাল লিমিটেডের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সুখাদা প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে ৬৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মেসার্স বর্ণের নামে ৬৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, রাহমান কেমিক্যালস লিমিটেডের নামে ৫৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং মুন এন্টারপ্রাইজের নাম ৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের মধ্যে পিকে হালদারের সহযোগী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়াররম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সাবেক এমডি রাশেদুল হককে গত রোববার গ্রেপ্তার করে দুদক।

এক মামলায় এ দুই আসামির বিরুদ্ধে আনাম কেমিক্যাল লিমিটেডের নামে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে দুদক কার্যালয় থেকে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ চার কোম্পানি হলোÑইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। তদন্তকারীদের মতে, এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পিকে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পিকে হালদার তার নিজের, আত্মীয়দের, বন্ধুদের ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে আটটি কোম্পানিতে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার ‘বৈধ কোনো উৎস’ অনুসন্ধানে মেলেনি। পিকে হালদারকে গ্রেপ্তারে এরই মধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এদিকে, পিকে হালদারের দুই সহযোগীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..