প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

পিছিয়ে ব্যাংক এগিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর কমার প্রভাব পড়েছে পুরো পুঁজিবাজারে। বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারে লেনদেন মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে আবার বাড়ছে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের লেনদেনের হার। তাছাড়া ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে জুন ক্লোজিং কোম্পানির লেনদেনও।

জানা গেছে, গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ার ৩০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আগের সপ্তাহে শেষদিকে কোম্পানির শেয়ার ২৮ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। এর আগে বেশ কয়েক দিন পতন ধারায় ছিল কোম্পানির শেয়ারদর। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সামান্য বেড়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

এদিকে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ৮৭ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহের শেষ দিকে কোম্পানির শেয়ার ৮৩ টাকা ৩০ পয়সায় বেচাকেনা হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ বেড়েছে কোম্পানির শেয়ারদর। এর আগে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেশ কিছুদিন পতনমুখী ছিল।

শুধু জিএসপি বা আইডিএলসি ফাইন্যান্স নয়, নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের অধিকাংশ কোম্পানি দর ব্যাংকের সঙ্গে পতন হয়েছিল। কিন্তু আবার জুন ক্লোজিং কোম্পানির সঙ্গে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের লেনদেন বাড়ছে।

তথ্যমতে, গত সপ্তাহে মোট লেনদেনে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের দখলে ছিল ১৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে এ খাতের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেনে অংশগ্রহণ ছিল ১১ শতাংশ। ওই সময় এ খাতের দৈনিক গড় লেনদেনে হয়েছিল ৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে এ খাতের লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে ব্যাংক খাতের লেনদেন দিন দিন কমছে। গেল সপ্তাহে ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশ। এ সময়ে এ খাতের দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে মোট লেনদেনে ব্যাংক খাতের অংশগ্রহণ ছিল ৩৪ শতাংশ। ওই সময় এ খাতের দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১৯৪ কোটি টাকা।

এদিকে জুন ক্লোজিং খাতের কোম্পানিগুলোর দর বাড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে খাতগুলোর লেনদেন। এর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র এবং প্রকৌশল খাতের লেনদেনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। গেল সপ্তাহে মোট লেনদেনে ওষুধ ও রসায়ন খাতের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ, বস্ত্র খাতেরও একই চিত্র। তাছাড়া লেনদেনে প্রকৌশল খাতের দখলে রয়েছে ১৪ শতাংশ। এসব খাতে আগের সপ্তাহের চেয়ে লেনদেনের হার দুই শতাংশ করে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার অসময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর বেড়ে পুঁজিবাজারে একটা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রথম দিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়ালে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এসব কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ বাড়ান। এতে এ খাতের লেনদেনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে এ খাতের শেয়ারদর অস্বাভাবিক বাড়তে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে সাত ব্যাংককে জরিমানার খবরে পতন হয় ব্যাংক খাতের শেয়ারদর। অন্যদিকে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিক্লারেশন বাড়তে থাকে। তাই বর্তমান সময়ে জুন ক্লোজিং কোম্পানির দিকে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বাড়ছে জুন ক্লোজিং কোম্পানির লেনদেনের হার।

এ সম্পর্কে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর ডিক্লারেশন বাড়ছে। এতে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। লেনদেনেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে পিই রেশিওর দিক দিয়ে এখনও ব্যাংক খাতের পিই রেশিও সবচেয়ে কম। ব্যাংক খাতের পিই রেশিও ১০ দশমিক পাঁচ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এরপরেই রয়েছে জ্বালানি খাতের পিই রেশিও, যার অবস্থান ১৪ পয়েন্টে। তাছাড়া নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের পিই রেশিও ২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পিই রেশিও যত দিন ১৫-এর ঘরে থাকে, তত দিন বিনিয়োগ নিরাপদ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ২৩টি এবং ব্যাংক খাতের ৩০টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত রয়েছে।