সুশিক্ষা

পিঠার স্বাদে আড্ডা…

পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান। নানা উৎসবে পিঠা ছাড়া এদেশের মানুষের খাবারের টেবিল অপূর্ণ থাকে। অতীতে গ্রামাঞ্চলে সারা বছরই ঘরে ঘরে পিঠা তৈরির উৎসব লেগে থাকত। সময়ের পরিক্রমায় তা কমে এলেও পিঠা এদেশ থেকে হারিয়ে যায়নি। বর্তমানে সাধারণত শীত ঋতুতে পিঠার আয়োজন বেশি হয়। গ্রামবাংলার শীতের পিঠার স্মৃতি মনে দোলা দেয়। উৎসব ও অনুষ্ঠানে পিঠার ব্যবহার চোখে পড়ে। শহুরে ব্যস্ত ও ইট পাথরের খাঁচায় আটকেপড়া জীবনে পিঠা তৈরি বেশ কষ্টসাধ্য।

পিঠার এ বৃত্তান্তের মাঝে আলাদাভাবে জড়িয়ে রয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে পিঠাকেন্দ্রিক গল্পটা একটু অন্যরকম। প্রতিষ্ঠার দুই দশকে কখনো ক্যাম্পাসে পিঠাঘরের দেখা মেলেনি। প্রতি বছর ক্যাম্পাসে নানা সময়ে ঘটা করে পিঠা উৎসব পালিত হয়েছে। কিন্তু সারা বছর শিক্ষার্থীদের জন্য পিঠার ব্যবস্থা  চোখে পড়েনি। তবে সময়ের পরিক্রমায় পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করেছে। বছর খানেক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট ইয়ার্ডের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ছোট্ট একটি টিনের পিঠাঘর। একে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আলাদা জগৎ তৈরি হয়েছে।

ক্যাম্পাসে অবসর মিললেই শিক্ষার্থীরা পিঠার টানে ছুটে আসে এখানে। তাদের প্রতিদিনের আড্ডা ও খোশগল্পের স্থানে পরিণত হয়েছে এটি। অন্য স্পট থেকে বর্তমানে পিঠাঘরেই বেশি ভিড় লেগে থাকে। এখানে ক্যাম্পাস চলাকালীন প্রতিদিন হরেক রকমের পিঠা তৈরি হয়। এসব পিঠার মধ্যে ভাপা, ভেজিটেবল ঝাল, চাপড়ি, চাঁদ পাকন, ফুলজুরি, চিতই, ডিম চিতই প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। রয়েছে নানা ধরনের ভর্তাÑশুঁটকি, ধনেপাতা, ডাল, সরষে ভর্তা প্রভৃতি। সময়ভেদে পাওয়া যায় নানা মৌসুমি পিঠা। হাতের নাগালে পিঠার এত সমারোহ শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রামবাংলার শীতের পিঠার সেই পুরোনো আমেজ ফিরিয়ে আনে প্রতিনিয়ত।

এই তো সেদিন পিঠা খাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের একজন ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জালাল আহমেদ বলেন, ব্যস্ত জীবনে মুখরোচক এ  খাবারটি শহর তো দূরের কথা, গ্রামেই এখন সেভাবে তৈরি হয় কি না সন্দেহ। শহরের যান্ত্রিক জীবনে এর স্বাদ উপভোগ করা দুষ্কর। ক্যাম্পাসে এমন একটি পিঠাঘর আমাদের প্রতিদিন পিঠার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পিঠাঘরটি শুধু মুখরোচক খাবারই উপহার দিচ্ছে না, বরং এটি শিক্ষার্থীদের একটি জনপ্রিয় মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।

পিঠা খেতে খেতে কথা হয় পিঠা প্রস্তুতকারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আমার সন্তানের মতো। আমি যতœ সহকারে মজার পিঠা খাওয়ানোর চেষ্টা করি।

প্রতিদিন এখানে পিঠা খেতে বিভিন্ন বিভাগের বহু শিক্ষার্থীর দেখা মেলে।

এটা তাদের মাঝে মেলবন্ধন সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।

  তানভীর আহমেদ

সর্বশেষ..