সম্পাদকীয়

পিডিবির লোকসান কমাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নিন

বিদ্যুৎ আধুনিক অর্থনীতি ও সভ্যতার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সব মানুষের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিতে বিশদ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা; ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন ও এক লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন এবং প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র স্থাপন ও সক্ষমতা বাড়ানো; সিস্টেম লস (পদ্ধতিগত লোকসান) এক অঙ্কে নামিয়ে আনা; বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ জ্বালানি অপচয় কমানো এবং ২০১৭ সালের মধ্যে দেশব্যাপী প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা। এসব লক্ষ্য অর্জন করা গেলে এটি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে বলেই আমরা আশাবাদী।

এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘২০১৮-১৯ অর্থবছর: পিডিবির লোকসান দাঁড়াল আট হাজার ১৪১ কোটি টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন নিঃসন্দেহে হতাশার। খবরে বলা হয়, ঘাটতি মেটাতে লোকসানের ৯৮ শতাংশই ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। ৯ বছরে পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ২১০ কোটি টাকা।

আমরা জানি, ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতিবছর রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে একদিকে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করছে, অন্যদিকে বেশি দামে কিনছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ আবার ভোক্তার কাছে সরকার বিক্রি করছে অর্ধেকেরও কম মূল্যে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ সংকট কমেছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতেও এ কেন্দ্রগুলো অনেকটা সহায়ক হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে দিতে হচ্ছে বড় মূল্য। প্রতি বছরই লোকসান বেড়ে চলেছে।

বেসরকারি খাতে এত লোকসান ও ভর্তুকি জোগানোর পর সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে লোকসান করলেও ঘাটতি মেটাতে এত দিন ঋণ দেওয়া হতো পিডিবিকে। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরই পিডিবিকে প্রথমবারের মতো ৯৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা ভর্তুকি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। আর গত অর্থবছরে রেকর্ড ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে পিডিবিকে। এর পরিমাণ সাত হাজার ৯৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সংস্থাটি মুনাফা করতে পারবে না, আবার সেটির দায়ও নিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এখনও সারা দেশে প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার চালু করা যায়নি, যদিও ২০১৭ সালের মধ্যে এটি করার লক্ষ্য ছিল। এটি করা গেলে গ্রাহকের পরিশোধিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়া নিশ্চিত হতো। লোকসান কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..