দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

পিপলস লিজিংয়ের ২৮০ ঋণ খেলাপিকে তলবের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ঋণখেলাপি ২৮০ গ্রাহককে দুই ধাপে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা অনুসারে, আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৪৩ জনকে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি অবশিষ্ট ১৩৭ জনকে হাজির হয়ে আদালতের কাছে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই ২৮০ জনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, দুই সপ্তাহের মধ্যে তা জানাতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চের প্রকাশিত লিখিত আদেশে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি একই বিষয়ে হাইকোর্ট মৌখিক আদেশ দিয়েছিলেন।

আদালতে পিপলস লিজিংয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান। ওই দিন তিনি জানিয়েছিলেন, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড কোম্পানির অবসায়ন প্রক্রিয়াধীন। আদালত এ কোম্পানির ঋণগ্রহীতাদের তালিকা চেয়েছিলেন। আমরা সে তালিকা দিয়েছিলাম। সেই তালিকা থেকে সর্বনি¤œ পাঁচ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি এমন ২৮০ জনকে তলব করেছেন আদালত।

এদিকে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) অর্থ আত্মসাতের ঘটনা উদ্ঘাটনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের নামের তালিকা চান। ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কর্মরত যেসব কর্মকর্তা এ দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পরিচয়সহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট পিকে হালদার দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করে তার প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান, তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে। গত ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

পরবর্তীকালে পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানানো হয়। পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএলের পক্ষ থেকে আদালতকে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন পিকে হালদার। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল।

সার্বিক দিক বিবেচনার পর পিকে হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় তিনি যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান, সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে আইএলএফএসএলের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি পিকে হালদার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..