দিনের খবর শেষ পাতা

পিপিপিতে গাবতলী-চিটাগং রোড রুটে মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ

ইসমাইল আলী: বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলের। বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল ও গাবতলী থেকে গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত আরও দুটি মেট্রোরেল নির্মাণে নেয়া হয়েছে প্রকল্প। এর বাইরে গাবতলী থেকে চিটাগং রোড পর্যন্ত আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণে আগ্রহী জাপান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে জিটুজি পদ্ধতিতে এ মেট্রোরেল নির্মাণ করতে চায় দেশটি।

বর্তমানে গাবতলী থেকে চিটাগং রোড পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে সমীক্ষা পরিচালনা করছে জাপান। এরই মধ্যে রুট অ্যালাইনমেন্ট চূড়ান্ত ও পিপিপি রিসার্চ সম্পন্ন হয়েছে। এর ভিত্তিতে মেট্রোরেলের জন্য ডিপো, ডিপোর এক্সেস করিডোর ও কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ড্যাপে (ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান) অন্তর্ভুক্তির জন্য সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাউজক) চিঠি দিয়েছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

এতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে পাঁচটি রুটে মেট্রোরেল চলবে। এগুলোর সমন্বয়ে ডিএমটিসিএল ১২৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় কাজ করছে। এর মধ্যে উড়ালপথে হবে ৬৭ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার এবং পাতালপথে ৬১ দশমিক ১৭ কিলোমিটার। আর এ পথে স্টেশন থাকবে ১০৪টি, যার মধ্যে ৫১টি উড়ালপথে ও ৫৩টি পাতালপথে।

২০৩০ সালের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে এমআরটি লাইন-২ (গাবতলী-চিটাগং রোড) নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালের ১৫ জুন জাপান ও বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা স্মারক সই করে। এরই ধারাবাহিকতায় জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়নের প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জাপান ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রথম প্ল্যাটফরম সভা, ২০১৮ সালের ৭ জুন দ্বিতীয় সভা, ২০১৯ সালেল ২১ মার্চ তৃতীয় সভা ও চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে প্রকল্পটির পিপিপি রিসার্চ সম্পন্ন হয়েছে, যা গত বছর সেপ্টেম্বরে জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ওই মাসেই মেট্রোরেলটি নির্মাণে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক সমীক্ষায় গাবতলী থেকে চিটাগং রোড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার মেইন লাইন ও গোলাপশাহ মাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত দুই দশমিক ৬০ কিলোমিটার ব্রাঞ্চ লাইনসহ সর্বমোট ২৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমআরটি লাইন-২-এর সম্ভাব্য রুট অ্যালাইনমেন্ট হলো গাবতলী থেকে বেড়িবাঁধ সড়ক, বসিলা, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাস স্টপ, সাত মসজিদ রোড, ঝিগাতলা, ধানমন্ডি ২নং রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, আজিমপুর, পলাশী, শহীদ মিনার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, গোলাপশাহ মাজার, বঙ্গভবন-সংলগ্ন পূর্ব দিকের সড়ক, মতিঝিল, আরামবাগ, কমলাপুর, মুগদা, মান্ডা ও ডেমরা হয়ে চিটাগং রোড পর্যন্ত। আর ব্রাঞ্চ লাইন হবে গোলাপশাহ মাজার থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট।

এমআরটি লাইন-২ নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে শুরু করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মেট্রোরেলের জন্য ডিপো, ডিপোর এক্সেস করিডোর ও কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণে বেশকিছু জমি লাগবে। আর ঢাকার ডেমরা এলাকায় মাতুয়াইল ও দামাড়িপাড়া মৌজায় গ্রিন মডেল টাউন ও আমুলিয়া মডেল টাউনের মধ্যবর্তী স্থানে মোট ৬৫ হেক্টর জমিতে ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট হাব নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রস্তাবিত ভূমি এলাকাটি রাজউকের ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক শেয়ার বিজকে বলেন, ঢাকায় পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেল নির্মাণকাজ চলছে। আর বিমানবন্দর-মতিঝিল ও গাবতলী-গুলশান-ভাটারা রুটে মেট্রোরেল নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। এর বাইরে পিপিপির ভিত্তিতে জিটুজি পদ্ধতিতে বাকি দুটি মেট্রোরেল নির্মাণে আগ্রহী জাপান। এজন্য প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই ড্যাপের মধ্যে জমির ধরন অন্তর্ভুক্তির জন্য রাজউকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে এ মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..