করপোরেট টক

পিৎজার প্রচলন ও আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে পিৎজা হাট

পিৎজা হাট বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক পিৎজা চেইন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এ ব্র্যান্ডটির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন হাসানুজ্জামান পিয়াস

পিৎজা হাট সম্পর্কে বলুন…
অমিত দেব থাপা: আমেরিকান রেস্টুরেন্ট চেইন পিৎজা হাট ও আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি রেস্টুরেন্ট। ড্যান কার্নি ও ফ্রাঙ্ক কার্নি নামের দুই ভাই এটি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। পিৎজা হাট মূলত ইয়াম! ব্র্যান্ডস ইনকরপোরেট এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এর বিশ্বখ্যাত খাবার হচ্ছে প্যান পিৎজা ও চিজি বাইটস। মূলত এ দুটি খাবারেই পিৎজা হাটের বিশেষত্ব। তবে আমেরিকান এ কুইজিন মেন্যুর রেস্টুরেন্টে পিৎজা এবং পাস্তার পাশাপাশি অনেক ধরনের সাইড ডিশ, মকটেল, শেক এবং ডেজার্ট পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে পিৎজা হাটের যাত্রা…

অমিত দেব: বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক পিৎজা চেইন পিৎজা হাট। সবদিক দিয়েই পিৎজার জন্য বাংলাদেশে পিৎজা হাটই প্রথম হিসেবে বিবেচিত। ২০০৩ সালে ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড প্রথম পিৎজা হাটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে আসে। পিৎজার প্রচলন, মানুষের আস্থা অর্জন প্রভৃতি বিবেচনায় পিৎজা হাটই অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র কাছে পিৎজার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু বলে মনে করেন?

অমিত দেব: বাংলাদেশে পিৎজার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বেশ পরিবর্তন এসেছে। প্রচুর মানুষ এখন ঘরের বাইরে বের হচ্ছে, রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার খাচ্ছে। তাছাড়া বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষ সহজেই বিশ্বের সব নামিদামি খাবার ব্র্যান্ডের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। সবাই ওইসব খাবারের প্রতি আগ্রহও প্রকাশ করছে। তাছাড়া অনেকে দেশের বাইরে বেড়াতে যাচ্ছেন। সেখানকার নানা ধরনের খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন। তাই তারা দেশে এসেও ওই খাবারের প্রত্যাশা করেন। এজন্যই পিৎজার চাহিদা বাড়ছে। তাই অনেকের খাবার তালিকায় প্রিয় হয়ে উঠেছে পিৎজা।

পিৎজার নানা উপাদান যেমন চিজ, ময়দা, সস প্রভৃতি কীভাবে, কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়?

অমিত দেব: পিৎজা হাটের মাদার কোম্পানি ‘ইয়াম’ অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকেই পিৎজার প্রধান উপাদানগুলো আমদানি করতে হয়। ইয়ামের অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ নেই। আমরা পিৎজার অন্যতম উপাদান চিজ নিউজিল্যান্ড ও ভারতের (যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি করি, যা বাংলাদেশে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নতমানের চিজ হিসেবে স্বীকৃত। আমরা সাইপ্রাস থেকে ময়দা আমদানি করি আসছি। আমাদের পণ্যের মান ঠিক রাখতে প্রথম থেকে ইয়াম অনুমোদিত সাইপ্রাসের একই বিক্রেতা থেকে ময়দা সংগ্রহ করছি। থাইল্যান্ড থেকে সস ও সৌদি আরব থেকে শতভাগ হালাল গরুর মাংসের টপিং আমদানি করা হয়। এছাড়া অন্য উপাদানগুলোও ইয়াম অনুমোদিত বিক্রেতা থেকে সংগ্রহ করি।

সম্প্রতি আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘ডমিনোজ পিৎজা’ দেশে ব্যবসা শুরু করেছে। এতে পিৎজা হাটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কী?

অমিত দেব: না, পিৎজা হাটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেও আমি মনে করি না। হ্যাঁ, নতুন প্রতিষ্ঠানের যাত্রা হলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে ভোক্তারা যেতে চাইবেন। তাদের খাবারের স্বাদও মানুষ নেবে। তবে শুধু এ কারণেই যে আমাদের এখানে আসবে না, বিষয়টি তেমন নয়। আমাদের এখানে আগের মতোই মানুষ আসছে। নিয়মিত ক্রেতারা যেমন পিৎজা হাটে ভিড় জমাচ্ছেন, তেমনি নতুন ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়ছে। ডমিনোজ তাদের মতো ব্যবসা করছে, আমরা আমাদের মতো ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছি।

পিৎজা হাটে কোন ধরনের ক্রেতার আনাগোনা বেশি?
অমিত দেব: আগে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের আনাগোনা বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আমরা সব শ্রেণির ক্রেতার কথা চিন্তা করে পিৎজা অফার করছি। কয়েক মাস হলো আমরা ‘ওয়াও’ অফারের আওতায় সর্বনিম্ন ১৯৯ টাকা (পারসোনাল) ও ৩৯৯ টাকায় (মিডিয়াম) পিৎজা অফার করছি। এতে সব বয়সী ও পেশার মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। বাংলাদেশে আর কেউই এ অফার দিচ্ছে না। পিৎজার উপাদানগুলো দেশের বাইরে থেকে অধিক দামে আমদানি করে শতভাগ মান নিয়ন্ত্রণ ও গুণাগুণ ঠিক রেখেই আমরা এ দামে পিৎজা অফার করছি। আমরা চাই, সব শ্রেণির ভোক্তা পিৎজা হাটে আসুক, সবাই পিৎজা উপভোগ করুক, আমাদের পিৎজার গুণ ও মান সম্পর্কে জানুক।

বাংলাদেশে পিৎজা হাটের জন্য চ্যালেঞ্জিংবিষয় কী?

অমিত দেব: ভোক্তার কাছে যথাসময়ে পিৎজা সরবরাহ করাটা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানীর যানজট সমস্যার কারণে ঠিক সময়ের মধ্যে ক্রেতার কাছে পিৎজা পৌঁছে দেওয়াটা সত্যিই চ্যালেঞ্জের। এছাড়া অনেক সময় গাড়ি পার্কিং নিয়েও বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়।

সর্বশেষ..